জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ির বাড়িতে দুদকের অভিযান, সম্পদের তালিকা প্রস্তুত

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:০৮ অপরাহ্ন, ২০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, ২১ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে বাড়িতে থাকা বিভিন্ন মালামালের তালিকা (ইনভেন্টরি) প্রস্তুতের কাজ চলছে।

সোমবার (২০ জুলাই) দুদকের মুখপাত্র তানজীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন: অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযান, যা বলল ডিএমপি

দুদক সূত্রে জানা যায়, সকালে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানের অংশ হিসেবে বাড়িতে থাকা সম্পদ ও মালামালের জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এর আগে, চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরও আগে ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

আরও পড়ুন: লাইসেন্স ছিল না, ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করেও বন্ধ হয়নি টুপটুপ রিসোর্ট

দুদকের মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, জিয়াউল আহসান ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের নামে ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা রাখার অভিযোগও রয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা ও উত্তোলনের পাশাপাশি তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতায় ওই অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর এবং রূপান্তর করা হয়েছে। তার নামে থাকা ৮টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

দুদকের দাবি, উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিজের পদ ও অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দণ্ডবিধি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

জিয়াউল আহসান সর্বশেষ ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শেখ হাসিনা সরকারের সময় তিনি আলোচিত ও প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।