শিশু আভানের মৃত্যু: চিকিৎসা নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ ইউনিভার্সেল মেডিকেলের
ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে চার বছর বয়সী শিশু ওয়াইজ কুরুনী আভানের মৃত্যুর ঘটনায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শিশুটির মৃত্যু নিয়ে একপেশে, খণ্ডিত ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, যেকোনো শিশুর অকালমৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও অপূরণীয় ক্ষতি। শিশু আভানের মৃত্যুতে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।
আরও পড়ুন: অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল ৪৯ জনের
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার এবং চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে ভুল, বিভ্রান্তিকর ও অবৈজ্ঞানিক তথ্য প্রচার করে জনরোষ উসকে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে হাসপাতালে ‘মব’ সৃষ্টির ঘোষণাও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এ ধরনের প্রচারণার ফলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে এবং সহিংসতার ঝুঁকি বাড়ছে। এতে দেশের সামগ্রিক চিকিৎসাসেবা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে প্রকৃত ক্লিনিক্যাল তথ্য তুলে ধরতে হাসপাতালের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: অক্টোবরে ভয়ংকর ডেঙ্গু, তিন দিনে কেড়ে নিল ২৭ প্রাণ
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে চার বছর বয়সী ওয়াইজ কুরুনী আভান জ্বর, নাক দিয়ে রক্তপাত ও হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বরের সন্দেহ নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে (ওপিডি) আসে।
সে সময় পিআইসিইউতে কর্তব্যরত সিনিয়র ডিউটি স্পেশালিস্ট ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. নজরুল ইসলাম শিশুটিকে পরীক্ষা করেন। পরে প্রয়োজনীয় কয়েকটি পরীক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি ঢাকা শিশু হাসপাতালের নবজাতক শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মাহফুজা শিরীনের অধীনে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ভর্তির পরপরই শিশুটির বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় শরীরে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শুরু করা হয়।
হাসপাতালের দাবি, শিশু ওয়ার্ডে থাকা অবস্থায় প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসে। তবে CRP, Ferritin, Procalcitonin, SGPT ও SGOTসহ অন্যান্য প্যারামিটারের ফলাফল ডেঙ্গু এক্সটেন্ডেড সিনড্রোমের সঙ্গে ক্লিনিক্যালি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল বলে দাবি করেছে হাসপাতালটি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ডেঙ্গুর মৌসুমে এ ধরনের ক্লিনিক্যাল ও ল্যাবরেটরি রিপোর্ট পাওয়া যায় এবং সে অনুযায়ী শিশুটির চিকিৎসা পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হয়।
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল জানিয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার জটিল ও মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক ও দাতব্য কার্যক্রমের পাশাপাশি মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতেও ভূমিকা রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।
শিশু আভানের মৃত্যুকে ঘিরে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা গুজব না ছড়িয়ে প্রকৃত ঘটনা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।





