বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীর আশপাশে জাহাজে হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে পরিবহন ব্যয় কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের উদ্যোগের খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা ও ব্যয় কমার সম্ভাবনা—এই দুই বিপরীত পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ১৬ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৩৯ ডলার বা ১ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ১০৪ দশমিক ৬৭ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ০২ ডলার বা ১ দশমিক ০৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ০৭ ডলারে দাঁড়ায়। এতে আগের দিনের মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা পাল্টে যায়।
আরও পড়ুন: ‘যৌনাঙ্গে বুট দিয়ে মেরেছে’- দিল্লিতে আটক বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ
এর আগের লেনদেনে ডব্লিউটিআইয়ের দাম তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে হামলার খবরের পর বাজারে উদ্বেগ বাড়ে। একই সময়ে ইরান জানায়, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানো এবং তেলের দাম উচ্চপর্যায়ে রাখতে তারা নতুন কৌশল প্রয়োগ করছে।
বুধবার সামুদ্রিক পরিবহন কর্মকর্তারা জানান, আগের ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালীর কাছে পৃথক দুটি ঘটনায় ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো নিক্ষিপ্ত বস্তুর আঘাতে একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ ও একটি শুকনো পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অত্যাধুনিক অস্ত্রেও নিরাপদ নয় সৌদি আরব
গত ১০ দিনে হরমুজ প্রণালীর আশপাশে জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের দাবি, দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং গত মাসে আরোপ করা কঠোর নিষেধাজ্ঞার জবাবে তারা হামলা জোরদার করছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ। এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়লে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এতে সরবরাহ কমে যাওয়া, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার চাপ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, জাহাজে জ্বালানি পরিবহনের ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের উদ্যোগ বাজারে দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে। ফলে একদিকে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে পরিবহন ব্যয় কমার সম্ভাবনা—এই দুইয়ের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে ওঠানামা চলছে।





