যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চান নেতানিয়াহু: আরাঘচি
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের কারাদণ্ড এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেন তিনি।
আরাঘচি লেখেন, ‘কারাগারের বাইরে থাকতে নেতানিয়াহু আমেরিকাকে আরেকটি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।’ তাঁর অভিযোগ, এর ফলে ইসরায়েল ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা বিবেচনায় নিচ্ছেন না ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত ১৬০, প্রাণ গেছে বহু শিশুর
তিনি আরও লেখেন, ‘গতবার আপনারা যখন কাজ শেষ করতে চেয়েছিলেন, তখন ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে এসেছিল। আবার ভাগ্য পরীক্ষা করতে চান? স্বাগতম। তবে সতর্ক থাকবেন, আমাদেরও কিছু অসমাপ্ত কাজ রয়েছে।’
এর আগে রোববার ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে দুই নেতার অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি ইসরায়েলের জনগণ অন্য কাউকে নেতা নির্বাচিত করলে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেরাই সেই দায়িত্ব নিতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে সেনা প্রশিক্ষণ শিবিরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫৮
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইসরায়েলের নেতা ভুল হলে—অর্থাৎ বিবি ছাড়া অন্য কেউ হলে—আমেরিকাকে নিজেদেরই এই কাজ করতে হবে। আর আমি তা করতে আগ্রহী নই।’ নেতানিয়াহুকে তাঁর প্রচলিত ডাকনাম ‘বিবি’ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
২০২২ সালের শেষ দিক থেকে ইসরায়েলের বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন নেতানিয়াহু। তাঁর সরকারকে ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে ডানপন্থী সরকার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এদিকে দুর্নীতির অভিযোগে দেশটিতে তাঁর বিচার চলছে। দোষী সাব্যস্ত হলে এসব অভিযোগে তাঁর কারাদণ্ড হতে পারে। গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতের (আইসিজে) সঙ্গে সম্পর্কিত আইনি পদক্ষেপের মুখেও রয়েছেন তিনি।
নেতানিয়াহুর সরকারকে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরাতে ইসরায়েলের বিরোধী দলগুলো নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক হামলা চালায়। এর জবাবে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি এবং জুনে একটি কাঠামোগত সমঝোতা হলেও পরবর্তী সময়ে আবারও সংঘাত শুরু হয়। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা থমকে যাওয়ার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি





