পিছিয়ে থেকেও রোমাকে হারাল রিয়াল মাদ্রিদ

Sadek Ali
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪৫ অপরাহ্ন, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২:১২ অপরাহ্ন, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে রোমার বিপক্ষে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের একপর্যায়ে ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়লেও শেষ দিকে মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে তিনটি গোল করে বুধবার ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ১৫ বারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা।

রোমার সাবেক কোচ হোসে মরিনহোর জন্য ম্যাচটি ছিল স্মরণীয় এক পুনর্মিলন। অন্যদিকে, রোমার সমর্থকদের সামনে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পাওয়ায় দারুণ স্বস্তি পেয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি।

আরও পড়ুন: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারাল আতলেতিকো

ম্যাচের ২০ মিনিটে মার্টেন ডি রুনের গোলে এগিয়ে যায় রোমা। ২৫ গজ দূর থেকে তাঁর নেওয়া শট ঠেকাতে পারেননি রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। এরপর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল স্বাগতিকরা। ডোনিয়েল মালেনের জোরালো শট কোর্তোয়ার হাত ফসকে গোললাইন পেরিয়ে যাওয়ার আগেই কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন তিনি।

তবে গোল হজমের পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সমতায় ফেরে রিয়াল। রোমার মারিও এরমোসোর ভুলের সুযোগ নিয়ে গোলের দিকে এগিয়ে যান কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ালে ১-১ সমতায় ফেরে রিয়াল।

আরও পড়ুন: ২৫ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে ঘরের মাঠে জয়ের দেখা পেল কভেন্ট্রি

চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের ১০০তম ম্যাচ খেলতে নেমে গোলটি করেন এমবাপ্পে। ২৭ বছর বয়সে প্রতিযোগিতাটিতে ১০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করে তিনি সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি গড়েন। গোলটি ছিল টুর্নামেন্টে তাঁর ৭২তম, যার মাধ্যমে রিয়াল কিংবদন্তি রাউল গঞ্জালেসকে পেছনে ফেলে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের শীর্ষ পাঁচে উঠে আসেন ফরাসি তারকা।

বিরতির আগে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল।

বিরতির পর মালেনের জোড়া গোলে এগিয়ে রোমা

বিরতির পর আক্রমণের গতি বাড়ায় রোমা। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা রদ্রিগো মোরা বল বাড়িয়ে দেন মালেনকে। প্রথম স্পর্শে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দ্বিতীয় স্পর্শেই কোর্তোয়ার মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠান তিনি। এতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রোমা।

এর মাত্র ছয় মিনিট পর আবারও গোল করেন মালেন। সতীর্থের বাড়ানো বল ধরে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে শক্তিশালী শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। প্রথমে অফসাইডের পতাকা উঠলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। ফলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইতালির ক্লাবটি।

পিছিয়ে পড়ে গোল শোধের চেষ্টা চালায় রিয়াল। এমবাপ্পে দুইবার গোলরক্ষক পিয়েরলুইজি গোলিনিকে পরীক্ষায় ফেলেন। পরে তাঁর আরেকটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।

শেষ সাত মিনিটে তিন গোল, রিয়ালের অবিশ্বাস্য জয়

ম্যাচের শেষ দিকে কর্নার থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথমে হেড থেকে ফিরতি বলে কাছ থেকে গোল করে ব্যবধান কমান কার্লোস এস্পি।

এর মাত্র দুই মিনিট পর আরেকটি কর্নার থেকে হেডে গোল করেন এন্দ্রিক। তাতে ৩-৩ সমতায় ফেরে রিয়াল।

ম্যাচের ৯০তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন সাবেক রোমা ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের সামনে গিয়ে কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে রিয়ালের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন করেন তিনি।

এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট পেল রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে, দুই ম্যাচ শেষে রোমার সংগ্রহ এক পয়েন্ট।

লন্ডনে নতুন ঘরেই জয় শাখতার দোনেৎস্কের

চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের নতুন অস্থায়ী হোম স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে এথেন্সের এএইকে-কে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ইউক্রেনের ক্লাব শাখতার দোনেৎস্ক।

ম্যাচের ২৮ মিনিটে লোভরো মায়ারের গোলে এগিয়ে যায় গ্রিক ক্লাবটি। ছয় মিনিট পর পেনাল্টি থেকে গোল করে শাখতারকে সমতায় ফেরান পেদ্রিনিও।

খেলার শেষ দিকে ভিনিসিয়ুস তোবিয়াস গোল করে শাখতারকে এগিয়ে দেন। এরপর বদলি খেলোয়াড় গ্লেইকার মেন্দোজা আরও একটি গোল করলে ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয়।

চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচে পিএসভি আইন্দহোভেনের সঙ্গে ড্র করার পর দুই ম্যাচে শাখতারের সংগ্রহ চার পয়েন্ট।

ডর্টমুন্ডকে হারিয়ে চমক বোদো/গ্লিমটের

নরওয়ের ক্লাব বোদো/গ্লিমটের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। ম্যাচের ৫২ মিনিটে ফ্রেডরিক শোভোল্ডের করা একমাত্র গোলটি জয় এনে দেয় স্বাগতিকদের।

২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগের রানার্সআপ ডর্টমুন্ড শেষ আধা ঘণ্টায় ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও গোল করতে পারেনি। শেষ দিকে ফেলিক্স এনমেচার একটি সুযোগও কাজে লাগেনি।

বোদোর কৃত্রিম ঘাসের মাঠ আস্পমাইরা স্টেডিয়ামে এর আগেও ম্যানচেস্টার সিটি, ইন্টার মিলান ও স্পোর্টিংয়ের মতো বড় দলগুলোকে হারিয়েছে নরওয়ের ক্লাবটি।

ফেনেরবাচেকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিল অ্যাস্টন ভিলা

তুরস্কের ফেনেরবাচেকে ৬-০ গোলে হারিয়ে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড গড়েছে অ্যাস্টন ভিলা।

উনাই এমেরির দল চলতি মৌসুমে নিজেদের মাঠ ভিলা পার্কে প্রথম জয় পেয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে তারা।

সুইস ফরোয়ার্ড জোহান মানজাম্বি প্রথমে গোল করে ভিলাকে এগিয়ে দেন। এরপর বিরতির আগেই জোড়া গোল করেন নিকোলাস জ্যাকসন। দ্বিতীয়ার্ধে রস বার্কলি আরও দুটি গোল করেন। ম্যাচের শেষ দিকে ট্যামি আব্রাহামের গোলটি ৬-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করে।