কক্সবাজার বিমানবন্দরে গণশুনানি অনুষ্ঠিত
গত ০২ জুলাই তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মহোদয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সকল মন্ত্রণালয় ও তাদের আওতাধীন দপ্তর/সংস্থাসমূহে মাসিক ভিত্তিতে গণশুনানি আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উক্ত সিদ্ধান্তের আলোকে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) কর্তৃক আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল ১০ ঘটিকায় কক্সবাজার বিমানবন্দরের ডিপার্চার লাউঞ্জে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
মূলত বিমানবন্দর ব্যবহারকারীদের নিকট থেকে সরাসরি মতামত, পরামর্শ ও অভিযোগ গ্রহণের মাধ্যমে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে সেবাদানকারী সংস্থাসমূহের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সমন্বয় জোরদার করার লক্ষ্যেই এই গণশুনানি আয়োজন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষ, খাদে পড়ে নিহত ১, আহত অন্তত ২৫
উক্ত গণশুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অতিরিক্ত সচিব এবং বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান (S M Lablur Rahman) । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেবিচক এর সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মোঃ নূর-ই-আলম, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এটিসি (Air Commodore Md. Noor-e-Alam, afwc, psc, ATC), বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জনাব মোঃ নুরুল হুদা (Md Nurul Huda), বেবিচক এর পরিচালক (সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা) ও উপসচিব জনাব সানিউল ফেরদৌস (Md. Saniul Ferdous)। এছাড়া অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার বিমানবন্দরে পরিচালক (রুঃদাঃ) জনাব মোঃ গোলাম মোর্তজা হোসেন (Md. Golam Mortoza Hossain)।
গণশুনানিতে সংশ্লিষ্ট যাত্রীসাধারণ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, এয়ারলাইন্স প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার অংশগ্রহণ করেন। যাত্রী সেবার মান উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে যাত্রীসাধারণের উপস্থিত সকলের কাছ থেকে পরামর্শ/মতামত ও অভিযোগ গ্রহণ করা হয়।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বৈশাখী মেলা ঘিরে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা
গণশুনানিতে বিমানবন্দর ব্যবহারকারীদের সেবার মান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, ফ্লাইট সময়সূচি ব্যবস্থাপনা, যাত্রীদের অভিযোগ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং তথ্যপ্রাপ্তির স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ।
এছাড়া বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যাত্রীদের প্রবেশ ও বহির্গমন প্রক্রিয়া, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের মান ও চেক-ইন কাউন্টার ব্যবস্থাপনা। বিমানবন্দর এলাকায় পরিচ্ছন্নতা, শৌচাগার ও ওয়েটিং লাউঞ্জের মান, খাবার ও পানির মূল্য ও গুণগত মান, পার্কিং সুবিধা এবং যাত্রী তথ্য প্রদর্শন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন বিষয়েও যাত্রীসাধারণ গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন।
গণশুনানিতে এয়ারলাইন্স প্রতিনিধিদের দায়িত্বশীল ভূমিকা, ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের ক্ষেত্রে যাত্রীদের পূর্ব অবহিতকরণ এবং গ্রাহকসেবা ডেস্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ও স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার, অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সেলকে আরও সক্রিয় করা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেবা সহজলভ্য করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এছাড়াও বিমানবন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন, রানওয়ে ও এপ্রোন ব্যবস্থাপনা, ফায়ার ও রেসকিউ প্রস্তুতি, জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বিত কার্যক্রম, পরিবেশবান্ধব বিমানবন্দর গড়ে তোলা এবং সংশ্লিষ্ট জনবলদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা, ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা এবং পর্যটন শিল্পের সঙ্গে বিমানবন্দর উন্নয়নের সমন্বয় নিয়েও গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
উপস্থিত যাত্রীসাধারণের প্রদত্ত মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক সমাধানযোগ্য বিষয়সমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। গণশুনানির মাধ্যমে যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।





