‘পুরো পটুয়াখালী হতে পারে পর্যটনের নতুন গন্তব্য: মো. শামিমুজ্জামান
কুয়াকাটার গণ্ডি পেরিয়ে পুরো পটুয়াখালীকে পর্যটনের নতুন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামিমুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘পুরো পটুয়াখালী হতে পারে পর্যটনের নতুন গন্তব্য।’
কার্নিভাল ও জেলার পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে সোমবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় উঠে আসে।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে অটোরিকশা ড্রাইভারদের বিক্ষোভ: মিশনপাড়া পর্যন্ত চলাচলের দাবি
পূজার ছুটিকে সামনে রেখে আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর কুয়াকাটায় অনুষ্ঠিত হবে ‘পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ আয়োজনকে ঘিরে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিম। প্রধান অতিথি ছিলেন মো. শামিমুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক মো. গনী উল আজম।
সভায় শামিমুজ্জামান বলেন, কুয়াকাটাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পর্যটন কার্যক্রম জেলার অন্যান্য এলাকায় সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এ জন্য নদীভিত্তিক পর্যটন, ইকোট্যুরিজম ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের মতো উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
আরও পড়ুন: গাজীপুর নয়, তাঁতীবাজার থেকেই পিচ্চি রাজার পলায়ন, গ্রেপ্তার ২
গলাচিপাসহ নদীমাতৃক এলাকাগুলোতে হোমস্টে ও স্থানীয় জীবনযাত্রাভিত্তিক পর্যটন চালুর বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত না করে টেকসই পর্যটন গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন বক্তারা। পর্যটনকেন্দ্রে চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধের পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পরিবহনে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে পর্যটকবান্ধব আচরণ তৈরিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পটুয়াখালী শহরের আশপাশে পর্যটন অবকাঠামো তৈরির একটি পরিকল্পনার কথাও সভায় জানানো হয়। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যান্টনমেন্ট ও ইপিজেডকে ঘিরে কয়েক একর জমিতে মিনি পার্ক ও আবাসন সুবিধাসহ পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা বলা হয়।
পর্যটন খাতে স্থানীয় বিনিয়োগ বাড়াতে সহজ শর্তে ঋণ ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করে পর্যটননির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।
সভায় জেলার সার্বিক উন্নয়নে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন অংশীজন।





