এক-দুই বিষয়ে ফেল করা ৪ লাখ ২২ হাজার শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:১৩ অপরাহ্ন, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১:২৪ অপরাহ্ন, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের একটি বছর যেন নষ্ট না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।

আরও পড়ুন: এইচএসসি ও সমমানে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ফেল করেছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। সব মিলিয়ে এক বা দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫। আর মোট অকৃতকার্য হয়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৪১৩ জন।

তিনি বলেন, এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে নেওয়া হবে। এতে তাদের শিক্ষাজীবনের আরও একটি বছর নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

আরও পড়ুন: এইচএসসির ফল প্রকাশ আজ, জানবেন যেভাবে

পরীক্ষার সময় নির্ধারণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সাত থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হলেও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকবে না। আবার বেশি দেরি হলে ভর্তি কার্যক্রমে সমস্যা হতে পারে। তাই প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হবে। তবে এক মাসের বেশি সময় দেওয়া হবে না।

খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ থেকে ৭ নভেম্বর

শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা যাবে। আবেদন পাওয়ার পর খাতা যাচাই করা হবে।

তিনি বলেন, গত এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ১৩ লাখ খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়েছিল। যাচাই শেষে ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পায়।

ইংরেজিতে অকৃতকার্য বেশি

কোন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ইংরেজিতে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে ১৩ হাজার ৮৪৯ জন ফেল করেছে। ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে শিক্ষক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফলাফলে পাসের হার কমে যাওয়ার বিষয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ, এবার তা কমে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ হয়েছে। এই হারকে সন্তোষজনক মনে করেন না জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শেখার পদ্ধতি, অভিভাবকদের ভূমিকা ও শিক্ষার পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে ঘাটতি চিহ্নিত করা হবে।

শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান নিয়ে সিদ্ধান্ত

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করবে। প্রয়োজনে আশপাশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। তবে এতে শিক্ষকদের চাকরি যাবে না বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং ভুলের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানান মন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, পরীক্ষার্থীরা যা অর্জন করেছে, ফলাফলে তার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি বাড়ানো, বাড়িতে নিয়মিত পড়াশোনা এবং মোবাইল আসক্তি ও মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কোন বিশ্ববিদ্যালয় কী মানদণ্ডে শিক্ষার্থী ভর্তি করবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিষয়। তবে ভর্তি হওয়ার সুযোগ সবার জন্য থাকবে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ মিলিয়ে এবার প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার আসন রয়েছে। পাস করেছে প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী।

প্রশ্নপত্র ও খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে এসব বিষয় খতিয়ে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও এমসিকিউ প্রশ্নপত্র পরিবর্তন এবং সংঘবদ্ধভাবে ফলাফল পাল্টানোর অপচেষ্টার ঘটনা ধরা পড়েছে। বাকি অভিযোগও তদন্ত করে দেখা হবে।