নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে মৃত বেড়ে ৭৫০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২১ অপরাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১:২৯ অপরাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ। রোববার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য থেকে এ সংখ্যা জানা গেছে।

নেপালে এখনো নিখোঁজ ২ হাজার ৪৯৮ জন। তাদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। অন্যদিকে তিব্বতে চীনা কর্তৃপক্ষ ১৬ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। সেখানে নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫৪৬ জন।

আরও পড়ুন: নেপালে মৃত বেড়ে ৬৭৫,অব্যাহত উদ্ধার অভিযান

নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ জন কর্মী, ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক এবং বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে থাকা ১২৭ জন নেপালি রয়েছেন। এ ছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারাও নিখোঁজ তালিকায় রয়েছেন।

প্রায় ২০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। এরই মধ্যে ৮ হাজার ১৮৬ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ২৭৯ জন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী এবং ২২৭ জন বিদেশি নাগরিককে দুর্গম এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র শর্ত পূরণ করলে, ইরানও হরমুজ খুলে দেবে: মাসুদ পেজেশকিয়ান

উদ্ধারকাজের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রমও চলছে। দুর্গত এলাকায় খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মোতায়েন করা হয়েছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দল। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সরকারি অর্থসহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় গত বুধবার ভয়াবহ এই দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। হিমালয় অঞ্চলে হঠাৎ হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ পানি ও পাথর নিচের দিকে নেমে আসে। এতে মুহূর্তেই বন্যার সৃষ্টি হয় এবং পাহাড়ি উপত্যকাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। বহু বসতবাড়ি ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দুর্যোগের পর প্রিয়জনদের সন্ধানে এখনো অপেক্ষায় রয়েছেন বহু পরিবার। একই সময়ে উদ্ধার হওয়া মরদেহ সংরক্ষণ ও পরিচয় শনাক্ত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালের মর্গগুলোতে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক মরদেহ দীর্ঘ সময় পানি ও কাদার নিচে থাকায় পচন ধরতে শুরু করেছে।

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র উপমহাপরিদর্শক অভি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, বন্যার পানিতে মরদেহগুলো অনেক দূর পর্যন্ত ভেসে যাওয়ায় শনাক্তকরণ কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক মরদেহের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে কিংবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবার কিছু মরদেহ দুই থেকে তিন দিন কাদা ও পানির নিচে চাপা পড়ে ছিল। ফলে চেহারা দেখে পরিচয় শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, খাড়া পর্বত ও সরু গিরিখাতের কারণে উদ্ধার অভিযানও কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল টানেল থেকে উদ্ধার, জীবিত ব্যক্তির অবস্থান শনাক্তের প্রযুক্তি, ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মরদেহ সংরক্ষণের জন্য বিশেষজ্ঞ সহায়তা চেয়েছে।

এরই মধ্যে ভারত থেকে ১১ সদস্যের একটি টানেল উদ্ধারকারী দলের বিশেষজ্ঞরা নেপালে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সহায়তা শুরু করেছেন।

এদিকে বন্যার পর হিমালয় অঞ্চলে তৈরি হওয়া একটি নতুন হ্রদ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। হ্রদটির পানি বেড়ে গেলে ফের বড় ধরনের বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। তবে চীনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাকৃতিকভাবে পানি বের হয়ে যাওয়ায় হ্রদটির আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং এটি এখন প্রায় পুরোপুরি শুকিয়ে গেছে। ফলে নতুন করে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা আপাতত কমেছে।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের জন্য শনিবার ৩৬ লাখ ডলারের বেশি মানবিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে দুর্গত ১০ হাজার পরিবারকে জরুরি খাদ্য সহায়তা দেওয়ার অর্থও রয়েছে।

 সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি