রংপুরে চার হত্যা: পুলিশ-আসামির শার্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তারা জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুই যুবক হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ কারণে তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
আরও পড়ুন: রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করায় গাজীপুরে যুবদলের আনন্দ মিছিল
এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের দুজনেরই বাড়ি মাছুয়াপাড়ায়। চারজনের মরদেহ উদ্ধারের দিন গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজনের একজনের পরনের শার্টের সঙ্গে পুলিশের এক কর্মকর্তার পরা শার্টের মিল রয়েছে—এমন দাবি করে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা চলছে।
রংপুরভিত্তিক কয়েকটি স্থানীয় ফেসবুক পেজের লাইভ ভিডিওতে মরদেহ উদ্ধারের সময় একই ধরনের শার্ট পরা মাস্কধারী এক ব্যক্তিকে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্নও উঠেছে।
আরও পড়ুন: কেবল অবকাঠামো নয়, পাহাড়ে মানবসম্পদ উন্নয়নই আসল: প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন
এ বিষয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, একই ধরনের শার্ট আলাদা আলাদা ব্যক্তি পরতে পারেন।
তদন্তে যুক্ত কর্মকর্তাদের পরিচয় নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা এবং গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজনের ধর্মীয় পরিচয়ের মিল নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এটি কাকতালীয় বিষয়; ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে তদন্তে যুক্ত করা হয়নি। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই যুবক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন—বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে সীমান্ত নামে এক ব্যক্তির বাসায় বসে তা সেবন করেন। পরে রাতের শেষ দিকে তারা দেবু নামে এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ হলে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন। এরপর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
তবে পুলিশের এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। পাশে থাকা নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের ফাঁকা জায়গা ও ছাদে অবস্থানের সুযোগ থাকার পরও তারা কেন গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গেলেন—সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন করা হয়।
জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, অল্প সময়ে মামলার তদন্তে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট। পুলিশের ইতিবাচক কাজের প্রশংসা এবং নেতিবাচক কাজের সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি তদন্তে আস্থা রাখার কথা বলেন। চারজনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
এখন আদালতে দেওয়া দুই আসামির জবানবন্দি, ঘটনাস্থলে তাদের উপস্থিতি, হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে তাদের গতিবিধি এবং সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত বিভিন্ন প্রশ্ন—সবকিছুর মধ্যে তদন্ত কতটা সঙ্গতিপূর্ণ প্রমাণ দাঁড় করাতে পারে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
তবে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থাকলেও মামলার তদন্ত ও অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখার বিষয়টি তদন্তের অংশ। ফলে হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উদঘাটনে তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।





