দুই ইনিংসেই ব্যাটিং ব্যর্থতা, ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

Sadek Ali
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২১ পূর্বাহ্ন, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শেষমেষ আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত হলো। দুদিনেই শেষ হলো ম্যাকাই টেস্ট। ম্যাচ বাঁচানো তো দূরের কথা, বাংলাদেশ ইনিংস হার এড়াতেই পারল না। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস থেমে গেল ৯৫ রানে। ইনিংস ও ৫১ রানে ম্যাচ জিতে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষ করল ১-১ সমতায়।

দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয়। ৯৫ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে টি-ব্রেকে যায় বাংলাদেশ। তখনও ইনিংস হার বাঁচাতে প্রয়োজন ছিল ৫১ রান। টি-ব্রেকের পর দিনের শেষ সেশনে ম্যাচ জেতার জন্য বাকি কাজটা খুব সহজেই সেরে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। ৮ উইকেটে ৯৫ রান নিয়ে টি-ব্রেকে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশন ছিল ভয়াবহ। এই পর্বে হারায় তারা আরও পাঁচ উইকেট। শেষ সেশনে উড়ে যায় বাকি প্রতিরোধ। চা-বিরতির পর মাত্র তিন বলেই বাকি দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। গুটিয়ে যায় একশর নিচে ৯৫ রানে। শেষের এই দুটি উইকেট নেন স্পিনার নাথান লায়ন।

আরও পড়ুন: শান্ত-মুশফিকের ব্যাটে বড় ইনিংসের আশা নিয়ে লাঞ্চে বাংলাদেশ

ম্যাকাইয়ের ফাস্ট ও বাউন্সি উইকেটে যে টেকনিক নিয়ে ব্যাটিংয়ের প্রয়োজন ছিল, তার ধারে কাছেও ছিল না বাংলাদেশ। ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল মুশফিকুর রহিম। একপাশ আঁকড়ে রেখে মুশফিক একাই লড়াই চালান। ৮০ বলে তার অপরাজিত ২৯ রানের ইনিংস জানান দিল, ম্যাকাইয়ের এই পেসবান্ধব উইকেটেও ব্যাটিং করা যায়। এই ইনিংসে তানজিদ, মুমিনুল ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত টি-টোয়েন্টি স্টাইলে ব্যাট চালিয়ে আউট হন। লিটন দাস উভয় ইনিংসেই শূন্য রানে ফিরেন। ডারউইন টেস্টেও কোনো রান করতে পারেননি লিটন। এই সফরে দুই টেস্টে তিন ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ হয় তার। ২৭ বল খেলে তিন দফার ব্যাটিংয়ে কোনো রানই করতে পারেননি এই উইকেটকিপার কাম ব্যাটার।

ম্যাকাইয়ে প্রথম ইনিংসের মতো এই দফায়ও অস্ট্রেলিয়ার বোলিং হিরো মিচেল স্টার্ক। ৩৯ রানে তুলে নেন ৪ উইকেট। ম্যাচে তার শিকার সবমিলিয়ে ১০ উইকেট।

আরও পড়ুন: স্টার্কের ৬ উইকেটের জবাবে শরিফুলের ছয় শিকার, অস্ট্রেলিয়ার লিড ১০১

ডারউইন টেস্টে হারের পর সিরিজ বাঁচাতে অস্ট্রেলিয়া যে পরিকল্পনা নিয়েছিল, তাতে শতভাগ সফল তারা। ম্যাকাইয়ের গতিময় উইকেটে বাংলাদেশের ব্যাটিং পরীক্ষা নেয় তারা। সেই পরীক্ষায় বাংলাদেশ উভয় ইনিংসেই ডাহা ফেল। হারল ম্যাচ বাজেভাবে, তাও মাত্র দুদিনের মধ্যে।

দ্বিতীয় দিনের সকালের সেশনটা অবশ্য শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের পক্ষেই। ক্যামেরন গ্রিন ও নাথান লায়নকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া লিড বাড়িয়ে নিয়েছিল ১৪৬ রানে, কিন্তু শেষ দুই উইকেট তুলে নিতে বাংলাদেশের বেশি সময় লাগেনি। এই ম্যাচে শরিফুল ইসলাম যেন অন্য এক চরিত্রে হাজির হয়েছেন। দারুণ ইনসুইং ইয়র্কারে গ্রিনকে এলবিডব্লিউ করে সাজঘরে ফেরান। ৬৭ রানে থামে অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারের ইনিংস। এই উইকেট দিয়েই শরিফুলের বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৭ উইকেট ৪৮ রানে—বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। লায়ন অপরাজিত ৩২ রান করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস টেনে নিয়ে যান ২১০ রানে।

১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ সেই পুরো ব্যবধান কমাতে পারল না। শেষ পর্যন্ত ইনিংস ও ৫১ রানে হারল বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ৬৪/১০ (৩৪ ওভারে, শরিফুল ১৪, স্টার্ক ৬/১২) ও ৯৫/১০ (৩৮.৩ ওভারে, শান্ত ৩১, মুশফিক ২৯*, (স্টার্ক ৪/৩৯, কামিন্স ৩/ ১০)।

অস্ট্রেলিয়া ২১০/১০ (৫২.৩ ওভারে, স্মিথ ৪২, ক্যামেরুন ৬৭, লায়ন ৩২, অতিরিক্ত ২৩, শরিফুল ৭/৪৮)। ফল: অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ৫১ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মিচেল স্টার্ক।

সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ।