মহাসড়কে এআই ক্যামেরার নজরদারিতে কমবে চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৩৪ অপরাহ্ন, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৬:২২ অপরাহ্ন, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরার নজরদারি চালু হওয়ায় চাঁদাবাজি কমে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, মালিকপক্ষ, শ্রমিক ফেডারেশন কিংবা পুলিশের কেউ চাঁদাবাজিতে জড়িত হলে ক্যামেরার মাধ্যমে তা শনাক্ত ও রেকর্ড করা সম্ভব হবে। জনগণের সহযোগিতা থাকলে মহাসড়কে চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট খারিজ

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মহাসড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে হাইওয়ে পুলিশ একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪৯০টি পিলারে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত গতিসীমার বেশি গতিতে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ, উল্টো পথে চলাচল, ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিং এবং সড়কের সাইন-সিগন্যাল অমান্যসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা হবে। শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট গাড়ির বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা আরোপ করা হবে এবং সেই তথ্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন: দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত, প্রাণহানি বেড়ে ৯১৮

জরিমানার বিষয়টি গাড়ির মালিকের মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থাও থাকবে।

একই গাড়ি তিনবার জরিমানার আওতায় পড়লে তার নিবন্ধন বাতিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে বিআরটিএর প্রচলিত আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অটো ফাইন সিস্টেম চালুর পর এর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে ভুলত্রুটি চিহ্নিত করা হবে। প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

নতুন এই ব্যবস্থা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হাইওয়ে পুলিশ ও বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালাবে বলেও জানান তিনি। সংবাদপত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এ বিষয়ে প্রচারণা চালানো হবে।

মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিন চাকার যানগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে মহাসড়কে কোনো ধরনের নন-মোটরাইজড যানবাহন বা থ্রি-হুইলার চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধেও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহাসড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় মালিক, শ্রমিক ও পুলিশ—সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ফারুক আহমেদ।

এ সময় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।