ইরান যুদ্ধ থেকে ‘পালানোর পথ’ খুঁজছে ইসরাইল

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:০৮ অপরাহ্ন, ১০ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৩:০৮ অপরাহ্ন, ১০ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের কিছু সিনিয়র কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তারা যুদ্ধ থেকে পিছু হটার সম্ভাব্য পথ বা সমাপ্তির পথ খুঁজছেন, যাতে এটি অঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য আরও ক্ষতিকর হওয়ার আগে থামানো যায়।

যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। হামলা চালানো বা থামানোর সিদ্ধান্ত মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে। তিনি এখনো ইরানের ওপর সম্পূর্ণ জয়লাভের লক্ষ্য নিয়ে অটল আছেন। রোববার এক সিনিয়র ইসরায়েলি কর্মকর্তার সঙ্গে টেলিফোনাল আলোচনায় এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।

আরও পড়ুন: ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহুর নিহতের দাবি

ট্রাম্প বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। প্রথমে তিনি ইরানের সরকারী নমনীয় সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার কথা বলেছিলেন, কিন্তু পরে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি ‘মোমেন্ট অফ ট্রুথ’ পর্যন্ত এগোতে চান।

উদ্বেগের প্রধান কারণ হলো যুদ্ধের বাড়তে থাকা খরচ এবং তেলের দাম বৃদ্ধি। উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। এক কর্মকর্তা জানান, “শাসন উৎখাত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালানো আমাদের স্বার্থে কি না তা নিশ্চিত নয়। কেউ অনির্দিষ্টকাল যুদ্ধের ময়দানে থাকতে চায় না।”

আরও পড়ুন: হিজবুল্লাহর হামলায় ইসরায়েলি মন্ত্রীর ছেলের ‘কলিজা ছিন্নভিন্ন’

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের সামরিক লক্ষ্য প্রায় অর্জন হয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার, অস্ত্র কারখানা এবং সামরিক ও গোয়েন্দা নেতৃত্বের ওপর আঘাত প্রায় সম্পন্ন। তারা মনে করেন, প্রধান সামরিক লক্ষ্য পূর্ণ হলে ইসরায়েল তার লক্ষ্য অর্জন করবে।

কিন্তু ইরান আত্মসমর্পণ করবে না; মার্কিন শর্তে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে পারে। কর্মকর্তারা নেতানিয়াহুর কৌশলের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত নন। নেতানিয়াহু যুদ্ধের পর ইরানের শাসনকে “অস্থিতিশীল করতে ও পরিবর্তন সম্ভব করতে” চাচ্ছেন। কিছু প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার মতে, লেবাননে বড় স্থলঅভিযানের ঝুঁকি এবং আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কও উদ্বেগের বিষয়।

তবে ট্রাম্প ইরানের বর্তমান শাসনকে ধ্বংস করে নতুন ইরান গঠনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন। এই লক্ষ্য অর্জনের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এখনও নেই। ইরাক যুদ্ধের সময়ের প্রশ্নটি আবারও সামনে এসেছে — এই যুদ্ধ শেষ হবে কীভাবে।