বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি ‘চূড়ান্ত নয়’, প্রয়োজনে সংশোধনের সুযোগ আছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৪৫ অপরাহ্ন, ০৪ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪৫ অপরাহ্ন, ০৪ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের- মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি স্থায়ী বা অপরিবর্তনীয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি জানান, প্রয়োজন হলে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিতে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজন করা সম্ভব।

বুধবার (৪ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীপল কাপুর-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

আরও পড়ুন: তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ আরও দুই অনুচ্ছেদে গণভোট চায় বিএনপি

মন্ত্রী জানান, দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি প্রায় পৌনে তিন বিলিয়ন ডলার। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। ফলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক, সম্ভাব্য বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন—সবকিছুই এই সম্পর্কের আওতায় পড়ে।

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে স্বাক্ষরিত চুক্তি নিয়ে দেশে যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে, সে বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতেই উভয় পক্ষের স্বার্থ জড়িত থাকে। কিছু ধারা একটি দেশের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে, আবার অন্য কিছু ধারা অপর পক্ষের জন্য ইতিবাচক হয়। আলোচনার মূল লক্ষ্য থাকে পারস্পরিক লাভ নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন: দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ক্ষমতাসীন দলের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি

তিনি আরও বলেন, চুক্তিটিকে এখনই সম্পূর্ণ ইতিবাচক বা সম্পূর্ণ নেতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করার সুযোগ নেই। এটি রাষ্ট্রীয় বাস্তবতার অংশ। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আলোচনা করে পরিবর্তন আনা সম্ভব।

মার্কিন আদালতে জরুরি ক্ষমতার আওতায় আরোপিত শুল্কসংক্রান্ত রায়ের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল এবং সরকার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ভিসা বন্ড ইস্যুতে ব্যবসায়ী মহলের উদ্বেগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখছে। সরকারের লক্ষ্য হলো দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের চলাচল ও কার্যক্রমে যেন অপ্রয়োজনীয় বাধা সৃষ্টি না হয়।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, অ-শুল্ক বাধা (নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার) কমানো গেলে এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহায়তার সুযোগ আরও বাড়তে পারে।