মন্ত্রিসভায় ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’সহ তিন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের অনুমোদন

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:৩৩ অপরাহ্ন, ০৩ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৮:৫১ অপরাহ্ন, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই বৈঠকে The Transfer of Property (Amendment) Act, 2026-এর খসড়া এবং ২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিলের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে।

গুমকে স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি

আরও পড়ুন: ‘সমকামিতা’ নিয়ে সমালোচনার ঝড়

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রণীত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

আইনটির লক্ষ্য মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি গুম প্রতিরোধ, দায়ীদের বিচার, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন: জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চেয়ারম্যানদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা

প্রস্তাবিত আইনে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন এবং দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধানও যুক্ত করা হয়েছে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে।

আইনে গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি, পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের লক্ষ্যে গুম সনদ প্রদান, কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এ আইনে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত এবং আরও ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার বিধান রাখা হয়েছে।

শাস্তির বিধান

গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর গুমের ঘটনায় মৃত্যু ঘটলে, মরদেহ উদ্ধার হলে অথবা পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা না গেলে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

সম্পত্তি দান করেও আজীবন ভোগাধিকার সংরক্ষণের সুযোগ

আইন ও বিচার বিভাগের উদ্যোগে The Transfer of Property (Amendment) Act, 2026-এর খসড়াও মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে।

সংশোধিত আইনে দাতা তার জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগাধিকার (Lifetime Usufruct) সংরক্ষণ করে সন্তান বা নাতি-নাতনির নামে সম্পত্তি দান করতে পারবেন।

সরকারের মতে, বিদ্যমান আইনে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান না থাকায় অনেক পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি সম্পত্তি দান করার পরও জীবদ্দশায় তা ভোগ ও ব্যবহার করার আইনি নিশ্চয়তা পেতেন না। নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে সেই বিষয়টি আইনি সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছে।

২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা বাতিল

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা এবং ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬ বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

সরকার জানিয়েছে, ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তালিকা প্রণয়নের সময় তা অনুসরণ করা হয়নি। এ কারণে তালিকার বৈধতা উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন।

গত ২৯ জুন জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে ওই পরিষদে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবও মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে।

সরকার জানিয়েছে, ২০২৬ সালের তালিকা বাতিল হলেও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৪ সালের আদেশ অনুযায়ী প্রণীত অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা এবং সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

এ ছাড়া অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার বলছে, ভবিষ্যতে ঔষধের মূল্য এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি না হয় এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় থাকে।