ছাগলনাইয়ায় বিএনপির দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা, শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তা

Sanchoy Biswas
ইলিয়াছ সুমন, ফেনী জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:০৫ অপরাহ্ন, ২৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৯:১৫ অপরাহ্ন, ২৯ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের বিরোধের জেরে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বুধবার (২৯ জুলাই) পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়।

দুপুরের পর থেকে পৌর শহরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পরিবেশ বিরাজ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জিরো পয়েন্ট, কলেজ রোড, ছাগলনাইয়া-ফেনী সড়ক, ছাগলনাইয়া-শুভপুর সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় র‌্যাব ও পুলিশের সদস্যরা অবস্থান নেন। একই সঙ্গে শহরজুড়ে নিরাপত্তা টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়।

আরও পড়ুন: দুর্নীতির অভিযোগ থেকে বাঁচতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অভিনব চেষ্টা

বিকেল ৫টার দিকে কলেজ রোড এলাকায় আলমগীর সিদ্দিকী গ্রুপের কয়েকজন সমর্থক জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন। এ সময় ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহেরের সঙ্গে ছাত্রদল নেতা নাদিম উদ্দিন ও তাঁর এক সহযোগীর বাগ্‌বিতণ্ডা এবং ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এর আগে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ঘোপাল ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আলমগীর সিদ্দিকী ও তাঁর সমর্থকদের হামলায় উপজেলা বিএনপির নেতা রিয়াজ উদ্দিন মজুমদার টিপু গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে তাঁর গাড়িচালক আদনান, হুমায়ুন, সোহেল ও ইমন আহত হন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: দাগনভূঞায় ইয়াবাসহ যুবক আটক

এ ঘটনায় আহত রিয়াজ উদ্দিন মজুমদার টিপু ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ছাগলনাইয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অন্যদিকে, একই দিনের ভোরে আলমগীর সিদ্দিকী গ্রুপের সদস্য হানিফ আহত হন। এ ঘটনার জন্য সিদ্দিকী গ্রুপ টিপু গ্রুপকে দায়ী করলেও উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের বলেন, দুই পক্ষের কর্মসূচি ও পাল্টা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা থাকায় পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।