বিস্ফোরণে বন্ধ ৩ বিদ্যুৎকেন্দ্র

সিরিয়ায় বাসে বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ৭

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, ০১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, ০১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় হোমস প্রদেশে একটি যাত্রীবাহী বাসে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সানা। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে রাজধানী দামেস্কের কাছে একটি গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনায় তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়।

সানা জানিয়েছে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) হোমসের মাসিয়াফ সেতু পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা একটি বেসামরিক বাসে গুলি চালায়। বাসটিতে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন।

আরও পড়ুন: এআই চিপের চাহিদায় রপ্তানিতে দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন রেকর্ড

হামলার খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। ঘটনাস্থল থেকে বাসটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কিছু ছবিও প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।

হোমসের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বাসেম মুহাম্মদ শাবান নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হোমস প্রদেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

আরও পড়ুন: স্ত্রীর মৃত্যুর পর হাসপাতালে মাহাথির মোহাম্মদ

শাবান আরও বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধীদের আটক না করা পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, বাসে হামলার কিছুক্ষণ আগে দামেস্কের কাছে পূর্ব ঘৌতায় একটি গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাবে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে দেইর আলি, আল-নাসিরিয়াহ ও তিশরিন—দেশটির তিনটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়।

সিরিয়ার বিদ্যুৎ কোম্পানি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর তিশরিন বিদ্যুৎকেন্দ্রেও আগুন লাগে। পরে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বশির ঘটনাস্থলে গিয়ে জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা সেখানে ঠান্ডা করার কাজ করছেন।

বিস্ফোরণের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন আল-বশির। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কারিগরি ত্রুটি, হামলা কিংবা নাশকতার কারণে হয়ে থাকতে পারে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করবে।

তিনি আরও জানান, ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনার পর তিশরিন বিদ্যুৎকেন্দ্রে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে গ্যাসের চাপ বাড়িয়ে দেইর আলি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় দেশটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে সিরিয়ার বিদ্যুৎ কোম্পানি। এর ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় বাড়তে পারে।

সিরিয়ার গ্যাস নেটওয়ার্কে গত ছয় সপ্তাহে এটি তৃতীয় বিস্ফোরণের ঘটনা। এর আগের দুটি ঘটনায় নাশকতার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে সিরিয়ার পেট্রোলিয়াম কোম্পানি। তবে এসব বিস্ফোরণের কোনো ঘটনার দায় এখন পর্যন্ত কেউ স্বীকার করেনি।

এদিকে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সিরিয়ায় জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে ডিজেলের দাম সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ এবং পেট্রোলের দাম ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভও হয়। সরকার জানিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে এসব মূল্যবৃদ্ধি সাময়িকভাবে করা হয়েছে।

 সূত্র: আল-জাজিরা