ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:২৬ পূর্বাহ্ন, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৯:২৬ পূর্বাহ্ন, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জানিয়েছে, দেশটির এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) চালানো এ হামলায় বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি আঘাত হানে। তবে এ ঘটনায় কোনো যাত্রী বা উড়োজাহাজের কর্মী হতাহত হননি বলে জানিয়েছেন ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী।

এর এক দিন আগে বন্দরনগরী এডেনে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে হুতিদের বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সদর দপ্তর এডেনেই অবস্থিত।

আরও পড়ুন: উত্তাল দিল্লিতে গণগ্রেফতার

ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-ইরিয়ানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, শুক্রবার বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি পড়ে। তখন সেখান থেকে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল একটি উড়োজাহাজ। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতস্থল থেকে উড়োজাহাজটির দূরত্ব ছিল প্রায় ৫০০ মিটার।

তিনি জানান, উড়োজাহাজটির সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে ছিলেন। বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় এড়ানো গেছে উল্লেখ করে তিনি বিমানবন্দরে হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির গুরুতর লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।

আরও পড়ুন: দায়িত্ব নেওয়ার ৫ দিনের মধ্যেই বরখাস্ত ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি

তবে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের পক্ষ থেকে শুক্রবার এক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, তারা এডেন প্রদেশের বদর ক্যাম্পে সৌদি বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর এবং একটি অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

মারিব ও তাইজে তীব্র লড়াই

ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী এবং ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে নতুন করে তীব্র লড়াই চলছে। এর মধ্যে শুক্রবার সরকারি বাহিনী রাজধানী সানার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত মারিব প্রদেশে অগ্রগতির দাবি করেছে।

ইয়েমেনের সামরিক মুখপাত্র মাজেদ আল-নাজিলি জানান, বিমান সহায়তা নিয়ে সরকারি বাহিনী প্রদেশটির পূর্বাঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করেছে এবং উল্লেখযোগ্য ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

তার দাবি, ২৪ ঘণ্টায় সরকারি বাহিনী ৪৩০ জনের বেশি হুতি যোদ্ধাকে নিষ্ক্রিয় করেছে। একই সময়ে হুতিদের ১০০টির বেশি যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা অকার্যকর করা হয়েছে।

যুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী হুতিদের কয়েকটি বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে। এসব সংঘর্ষে হুতিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া তাইজ এলাকায় হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষায়িত ড্রোন দলের সদস্যদের আটক করার কথা জানিয়েছে সরকারি বাহিনী।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতিরা ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজকে ঘিরে ফেলেছে। শহরটির সঙ্গে দক্ষিণের বন্দরনগরী এডেনের প্রধান সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করায় বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এতে দেশটির মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

রিয়াদের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত

শুক্রবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

সৌদি আরবের অভিযোগ, ইরান হুতিদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশটির বিরুদ্ধে হামলায় উৎসাহিত করছে। তবে শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, হুতিদের কোনো সামরিক অভিযানে তেহরানের ভূমিকা নেই।

একই সঙ্গে হুতি ও রিয়াদের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাবও পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান।

২০১৪ সাল থেকে চলছে ইয়েমেনের যুদ্ধ

২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে সরকারকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করলে দেশটিতে সংঘাত শুরু হয়। আনসার আল্লাহ নামেও পরিচিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সহায়তা দিতে ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক সামরিক জোট হস্তক্ষেপ করে। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।

২০২২ সালে জাতিসংঘের সমর্থনে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির ফলে বড় ধরনের লড়াই অনেকটা কমে আসে। তবে গত জুলাইয়ে হুতিরা সৌদি আরবের বন্দর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে উত্তেজনা বেড়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর মোখায় আকস্মিক স্থল অভিযান চালিয়ে সরকারি বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করে। একই মাসে তারা পশ্চিম উপকূল ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের আরও কিছু এলাকা দখল করে নেয়। এসব এলাকার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মাইয়ুন দ্বীপও রয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা