বিতর্কিত ব্যবসায়ী বিদেশী নাগরিক ডা. আরিফুরকে প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগে নানা গুঞ্জন

Any Akter
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩:৫৭ অপরাহ্ন, ২৬ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৪:১০ অপরাহ্ন, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বেসরকারি প্রিমিয়ার ব‍্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন ও চেয়ারম্যান নিয়োগে ব্যাংক পাড়ায় নানা গুঞ্জন চলছে। ভিসা ট্রেডিংয়ের জন্য সৌদি আরবে নিষিদ্ধ বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাবেক অর্থমন্ত্রী লোটাস কামালের ঘনিষ্ঠ ডা. আরিফুর রহমান প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ করায় গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নীতি নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই বিতর্কিত ব্যবসায়ী কিভাবে প্রিমিয়াম ব্যাংকের মত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেল এবং কিভাবে তাকে অপসারণ করা যায় সেটা নিয়ে তৎপর রয়েছে একটি পক্ষ।  

আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ডা. এইচ বি এম ইকবাল ও তার পরিবারের সদস্যদের যে কারণে প্রিমিয়ার ব্যাংকের পরিচালক পদ থেকে সরানো হয়েছে একই কারণ বিদ্যমান পরিচালক ডা. আরিফুরের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য  হতে হবে। এই আলোচনায় জোরেশোরেই উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৌদি আরবে এক সময় ভিসা ট্রেডিংয়ের জন্য বহুল বিতর্কিত ডা. আরিফুর প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকালীন ভাইস-চেয়ারম্যান। যিনি শুরু থেকেই নিজেকে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন বলে দাবি করতেন। এমনকী এক সময় যুবলীগ নেতা ছিলেন ও শেখ মনিরের কাছের লোক বলেও পরিচয় দিতেন। 

আরও পড়ুন: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে দেশে আর কখনও ‘রাতের ভোট’ হবে না: অধ্যাপক আলী রিয়াজ

ডা. আরিফুর তাদের তদবিরে ব্যাংক পরিচালক পদে টিকে গেলেন এবং সবাইকে দিয়ে পর্ষদ চেয়ারম্যান পদও বাগালেন সেটা কি গভীর অনুসন্ধান ও তদন্তের দাবি রাখে না? প্রিমিয়ার ব‍্যাংকের প্রথম ও মধ্যম সারির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এটা তারা সবাই জানেন, নতুন চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী লোটাস কামালের ব্যবসায়িক পার্টনার ছিলেন। এমনকী বিদেশে লোটাস কামালের ব্যবসা টাকা পাঠানোর বিষয়টিও ডা. আরিফ দেখাশুনা করেতেন। আর এই অর জন্যই বিশ্বাসযোগ্যতা পাচ্ছে যে মন্ত্রী হিসেবে লোটাস কামাল যখনই দেশের বাইরে যেতেন তখন তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকতেন ডা. আরিফ। বাংলাদেশের ব্যাংক খাত ও আর্থিক খাত লুটপাট ও ধ্বংসের অন্যতম হোতা লোটাস কামাল দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব গ্রহণ করে এখন বাদশাহি হালে দুবাইয়ে আছেন। কথিত আছে, ডা. আরিফ যিনি কানাডা ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক (কানাডা পাসপোর্ট নং - Ay 235236, বাংলাদেশ পাসপোর্ট নং A 01222403) লোটাস কামালকে নেপথ্যে থেকে পলাতক লোটাস কামালকে ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব পেতে সহায়তা করেন। 

প্রশ্ন ওঠা খুবই স্বাভাবিক যুবলীগের রাজনীতির সাথে এক সময় যার কর্মকান্ড আলোচিত, যিনি অতিমাত্রায় হাসিনা ঘনিষ্ঠ, এমনকী দিল্লিতে পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনার সাথে এখনো যার যোগাযোগ থাকার প্রবল সম্ভাবনা সেই ডা. আরিফুর রহমানকে প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ দেওয়া কতটা নিরাপদ?  যারা কিছুদিন আগেও বিগত ২৫ বছরের চেয়ারম্যান ডা. এইচ বি এম ইকবালের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তারাই এখন প্রিমিয়ার ব্যাংকের কয়েকজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাসহ ডা. আরিফ একটি বড়সড় লবিষ্ঠ গোষ্ঠীর মাধ্যমে সরকারের অর্থ ও ব্যাংকিং সেক্টরের প্রভাবশালীদের আশীর্বাদ লাভে সক্ষম হন। বিষয়টি ইতিমধ্যে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার নজরে এসেছে। গুঞ্জন আছে এই মুহূর্তে সরকার পরিচালনায় প্রভাব আছে এমন কয়েকজনকে প্রভাবিত করতে পারেন এইরকম দু'একজনের সাথে ডা. আরিফ ও তার ঘনিষ্ঠরা মোটা অংকের টাকার লেনদেন করেছেন।

আরও পড়ুন: নির্বাচন ডাকাতি বন্ধ করতে আগের জড়িতদের চেহারা সামনে আনতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

হাজার হাজার কোটি টাকা জামানত থাকা প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে হাসিনা ঘনিষ্ঠ ও সাবেক অর্থ মন্ত্রী লোটাস কামালের পার্টনার ডা. আরিফকে বসানো কতটা নিরাপদ হয়েছে। নামে-বেনামে ঋণ অনুমোদন দিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনার কাছেই তিনি অর্থপাচার করবেন না তার নিশ্চয়তা কে দেবে? আর ডা. আরিফের চেয়ারম্যান পদে থাকা অবস্থায় মঞ্জুর করা ঋণের টাকাই আবার ড. ইউনূস সরকার উৎখাতে ব্যবহার হবে না এই নিশ্চয়তা কে দিতে পারে? 

সৌদি আরবে প্রবেশ নিষিদ্ধ, ভিসা ট্রেডিংয়ের জন্য বহুল বিতর্কিত, সাবেক অর্থমন্ত্রী লোটাস কামালের পার্টনার, সাবেক যুবলীগ নেতা, বিদেশি নাগরিক এবং ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সাথে অতিতে সর্বদা সরাসরি যোগাযোগে সক্ষম এমন একজন সন্ধিগ্ধ ব্যক্তিকে প্রিমিয়ার ব্যাংকের পরিচালক ও চেয়ারম্যান পদে রাখা কতটা যৌক্তিক সেটি কি বাংলাদেশ ব‍্যাংক ভেবে দেখে জনসাধারণের জামানত সুরক্ষার জন্য প্রশাসক  নিয়োগ দিতে পারতো।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংক বিশ্লেষক ড. মাহবুবুর রহমান এসব বিষয়ে বলেন, বিগত সরকারের নীতিনির্ধারকদের সাথে যোগাযোগ ছিল এবং অর্থমন্ত্রীদের পার্টনার ছিল এমন কেউ ব্যাংক চেয়ারম্যান পদে থাকা সবভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সকল সংস্থাকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।