শেখ হাসিনা প্রত্যর্পণে ভারতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আনতে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তবে এ প্রত্যর্পণ সম্পূর্ণভাবে ভারতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে ঢাকার আলোচনার সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে নয়াদিল্লিকেই। ভারত রাজি না হলে আমাদের তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। শুধু রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারি—এই পর্যন্ত।”
আরও পড়ুন: কমলাপুর স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড়, টিকিট কেটেও সিট না পাওয়ার অভিযোগ
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য তৃতীয় দেশে শেখ হাসিনার পুনর্বাসন নিয়ে যে গুঞ্জন আছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কোনো মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই। “আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি। এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা শুধু চাই উনি দেশে ফিরুন,” মন্তব্য করেন তিনি।
‘ডিজিএফআই–র্যাব বিলুপ্ত বললেই তো হবে না’
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নানা-নানির কবর জিয়ারত করলেন
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয় যে ৪০টি সুপারিশ দিয়েছে, তার মধ্যে র্যাব ও ডিজিএফআই বিলুপ্তির পরামর্শও ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার এসব সুপারিশ গ্রহণ করবে কি না—এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “ডিজিএফআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠান বিশ্বের সব দেশেই থাকে। শুধু বলা হলেই তা বিলুপ্ত করা যায় না। সুপারিশগুলো বিবেচনা করা হবে, যেগুলো গ্রহণযোগ্য মনে হবে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে আগামী সরকার।”
র্যাব সম্পর্কে তিনি বলেন, র্যাব প্রতিষ্ঠার শুরুতে অত্যন্ত কার্যকর একটি বাহিনী ছিল। কিন্তু গত ১৫ বছরে তাদের এমন সব কাজে ব্যবহার করা হয়েছে যা তাদের মূল দায়িত্ব ছিল না। এখন যদি তারা দেশের স্বার্থে কাজ করে, তাহলে এসব প্রতিষ্ঠান নষ্ট করার প্রশ্নই আসে না।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে নতুন কোনো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় না নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা আছে। র্যাবের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে, এটা আন্তর্জাতিক মহলও স্বীকার করছে। বর্তমান সরকার মানবাধিকার রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।





