কমলাপুর স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড়, টিকিট কেটেও সিট না পাওয়ার অভিযোগ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:৩৮ অপরাহ্ন, ১৬ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৬:৪৪ অপরাহ্ন, ২৬ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন-এ ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। সোমবার (১৬ মার্চ) সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস হওয়ায় চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। বিকেলের পর থেকে স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের আগাম টিকিট কেটে রাখা যাত্রীদের ঈদযাত্রা শুরু হয় গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) থেকে। সে হিসাবে সোমবার ছিল অগ্রিম টিকিটধারীদের ঈদযাত্রার চতুর্থ দিন। তবে প্রথম তিন দিনে ট্রেনযাত্রায় তেমন ভিড় দেখা যায়নি। যাত্রীরা তুলনামূলক স্বস্তি ও আরামদায়ক পরিবেশে বাড়ি ফিরতে পেরেছিলেন। কিন্তু সোমবার বিকেলের পর সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন দেখা যায়।

আরও পড়ুন: নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি, গভীর শোক প্রধানমন্ত্রীর তারিক রহমানের

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাত ৮টায় উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও বুড়িমারীর উদ্দেশে ছেড়ে যায় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস। ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ এতটাই বেশি ছিল যে অতিরিক্ত বগি সংযুক্ত করার পরও অনেক যাত্রী নির্ধারিত বগিতে উঠতে পারেননি। অনেককে ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে বা ঝুলে যাত্রা করতে দেখা গেছে। তবে ট্রেনের ছাদে যাত্রী উঠতে দেয়নি স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

রংপুরে দাদার বাড়িতে যাওয়ার জন্য বাবা-মা ও দুই বোনের সঙ্গে স্টেশনে এসেছিল মুন্নি নামের এক যাত্রী। তিনি জানান, বাবার অফিস শেষ হতে দেরি হওয়ায় স্টেশনে পৌঁছাতে একটু দেরি হয়ে যায়। অগ্রিম টিকিট থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত বগি খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়েন তারা। পরে ট্রেন ছাড়ার আগমুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে একটি বগিতে উঠতে সক্ষম হন।

আরও পড়ুন: বম্বে সুইটসের পাঁচ মসলাসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

তবে সবাই ট্রেনে উঠতে পারেননি। জসিম, ছাইদুল ও রোকন—রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তিন বন্ধু—অগ্রিম টিকিট কাটলেও ট্রেন মিস করেন। অফিস শেষে স্টেশনে পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হওয়ায় রাত ৮টা ১০ মিনিটে তারা স্টেশনে পৌঁছান।

ট্রেন মিস করার অভিযোগ করে তারা বলেন, সাধারণত নির্ধারিত সময়ের ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর ট্রেন ছাড়তে দেখা যায়। কিন্তু সোমবার ট্রেন ঠিক সময়েই ছেড়ে যায়। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে তারা ট্রেনটি ধরতে পারেননি। এখন বাসে যেতে হবে, এতে খরচও বেশি এবং যাত্রাও হবে কষ্টকর।

শুধু কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস নয়, অন্যান্য ট্রেনও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। এতে নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে পৌঁছানো যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেলেও অনেকেই অভিযোগ করেছেন—টিকিট থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত বগি বা আসন খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

রেলওয়ের টিটিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত তিন দিনের তুলনায় সোমবার সন্ধ্যা থেকে ঘরমুখো যাত্রীর চাপ বাড়তে শুরু করেছে। তাদের ধারণা, আগামী দিনগুলোতে এই চাপ আরও বাড়বে। বিশেষ করে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বুধবার পর্যন্ত অফিস চালু থাকায় ওই দিন সবচেয়ে বেশি ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।