দেশের স্বার্থে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে বর্তমান সংসদে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংসদে দেওয়া সমাপনী বক্তৃতায় তিনি বলেন, সংসদ হচ্ছে জনগণের অধিকার রক্ষার কেন্দ্রবিন্দু এবং বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক। জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের চুক্তি
নারী শিক্ষার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, অতীতে বিএনপি সরকারের উদ্যোগে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত তা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি মেধাভিত্তিক উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বক্তৃতায় দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিভিন্ন অধ্যায় তুলে ধরে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, এসব আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
আরও পড়ুন: অনেক দলের ব্যাংক আছে, ঋণখেলাপির সুযোগ নেই: অর্থমন্ত্রী
শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান শিক্ষা কাঠামোয় পরিবর্তন প্রয়োজন। একটি আধুনিক, মানসম্মত ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে আগামী জুলাই থেকে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুলব্যাগ, পোশাক ও জুতা সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিজের প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও পরিবেশ দেখে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে এবং এ বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার দৃঢ়।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এ খাতে সৃষ্ট সমস্যায় জনগণ ভোগান্তিতে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিরোধী দলের প্রস্তাব গ্রহণ করে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এছাড়া সাম্প্রতিক বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম জোরদারের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।





