তাহিরপুর সীমান্তে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে শতাধিক বসতবাড়ি বিধ্বস্ত

Sadek Ali
মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ্, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)
প্রকাশিত: ৫:৫৪ অপরাহ্ন, ২৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৬:৫১ অপরাহ্ন, ২৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত
  • চরম দুর্ভোগে সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা
  • আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে শত শত মানুষের মানবেতর জীবনযাপন
  • এখনও কাঙ্ক্ষিত সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ
  • বসতবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় পার্শ্ববর্তী গ্রামের মানুষজন

হাওরবেষ্টিত ভাটির জনপদ ও ভারতের মেঘালয় সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জের পর্যটন উপজেলা খ্যাত তাহিরপুরের উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চারাগাঁও, বাঁশতলা, মাইঝহাটি, জঙ্গলবাড়ি, লাকমা, লালঘাট, চানপুর ও কলাগাঁও গ্রামে সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে শতাধিক বসতবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ফলে এসব পরিবারের প্রায় ৫ শতাধিক লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এছাড়াও বসতবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর হাজার হাজার মানুষ।

উপজেলার সীমান্তবর্তী উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চারাগাঁও গ্রামের রাবেয়া খাতুন বলেন, স্বামীকে কেড়ে নিয়েছিল বজ্রপাত, আর এবার মাথাগোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও কেড়ে নিল পাহাড়ি ঢলের পানি। একের পর এক নির্মম আঘাতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন রাবেয়া খাতুন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর পাথর ও কয়লার ডিপোতে কাজ করে কষ্টার্জিত রোজগারের টাকা দিয়ে কোনোমতে মাথাগোঁজার জন্য ছোট্ট একটি ঘর তৈরি করেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে মুহূর্তেই ভেঙে যায় অনেক দিনের কষ্টার্জিত টাকায় তৈরি করা ঘরটি।

আরও পড়ুন: বগুড়ায় অস্ত্র ও মাদকসহ ৭ মামলার বিএনপির সাবেক নেতা খুন

মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ছোট ছেলেকে নিয়ে কোনোমতে চলছিল তার সংসার। পাহাড়ি ঢলে ঘর হারিয়ে এখন আশ্রয় নিয়েছেন মেয়ের বাড়িতে। দুবেলা খাবার জোগাড় করাই এখন তার সবচেয়ে বড় সংগ্রাম।

রাবেয়া খাতুন বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্ট করে ঘর বানাইছিলাম। এক ঢলেই সব শেষ হয়ে গেছে। এখন মেয়ের বাড়িতে থাকি। নিজের একটা ঘরই এখন সবচেয়ে বড় চাওয়া।”

আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক ৫ জনকে পুশ-ইনের অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি

একই গ্রামের নাজিম উদ্দিন বলেন, পাহাড়ি ঢলে আমার বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘর মেরামতের সামর্থ্য নেই। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে।

রাবেয়া খাতুন, নাজিম উদ্দিনের মতো দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চারাগাঁও, বাঁশতলা, মাইঝহাটি, জঙ্গলবাড়ি, লাকমা, লালঘাট, চানপুর ও কলাগাঁও গ্রামের শতাধিক পরিবার। পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডবে অনেকের বসতবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে ভেসে গেছে ঘরের আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় তৈজসপত্র। মাথাগোঁজার ঠাঁই হারিয়ে অনেক পরিবার আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি এবং অস্থায়ী আশ্রয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

একই গ্রামের বিউটি আক্তার বলেন, ঢলের সময় প্রাণ বাঁচাতে ঘর ছেড়ে বের হয়ে যেতে হয়েছিল। পানি নেমে যাওয়ার পর ফিরে দেখি ঘরটি আর থাকার মতো নেই। সরকারি সহায়তা ছাড়া নতুন করে ঘর তৈরি করা সম্ভব নয়।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, দুর্যোগের কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও কাঙ্ক্ষিত কোনো সহায়তা তাদের কাছে পৌঁছেনি। মাথাগোঁজার আশ্রয় হারিয়ে অনেক পরিবার আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি কিংবা কারও বাড়িতে অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে সুনামগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান হৃদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী দ্রুত তাদের মাঝে সহায়তা বিতরণ করা হবে।