দেশজুড়ে টানা বর্ষণ অব্যাহত, ১৬ জুলাই থেকে ফের বাড়বে বৃষ্টির তীব্রতা

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২১ পূর্বাহ্ন, ১৪ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, ১৪ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আষাঢ়ের শেষ প্রহরে সারা দেশে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মৌসুমি বায়ু। টানা ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ বহু এলাকায় জলাবদ্ধতা এখনো কাটেনি। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুই দিন বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও ১৬ জুলাই থেকে আবারও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের প্রবণতা বাড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৭ ঘণ্টায় ঢাকায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার একদিনেই রাজধানীতে ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রাম শহরের আমবাগান এলাকায়।

আরও পড়ুন: গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৯৭ মিমি বৃষ্টি, অতি ভারী বর্ষণ রেকর্ড

বিশেষ আবহাওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আজ সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের সব বিভাগে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। তবে দেশের ৭৬ থেকে ১০০ শতাংশ এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে দিনের তাপমাত্রা ৩১ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতের তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।

তবে ১৬ জুলাই থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হয়ে দেশের অধিকাংশ এলাকায় মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আরও পড়ুন: দেশজুড়ে আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমা নদীর ছাতক, কুশিয়ারার ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এছাড়া সুরমা, তিস্তা ও মুহুরি নদীর কয়েকটি পয়েন্ট বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে অথবা বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

অন্যদিকে বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীসংলগ্ন এলাকার বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে আরও সক্রিয় হওয়ায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। যদিও মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা সাময়িকভাবে কমতে পারে, তবে বৃহস্পতিবার থেকে আবারও বর্ষণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ এবং ওরোগ্রাফিক প্রভাবের কারণে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

ভারী বর্ষণের প্রভাবে রাজধানীর গুলশান-শাহজাদপুর লিংক রোডের একটি অংশ ধসে পড়েছে। দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা ও পানির চাপে সড়কের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় এ ঘটনা ঘটে। ধসে যাওয়া অংশে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যানবাহনকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ।