চকরিয়ায় ৩ ভাইয়ের নেতৃত্বে ডাকাত দল ‘বেলাল বাহিনী’
১০ অস্ত্র ও ৫২ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার ৪
বেলাল হোসেন, কামাল আহমেদ ও আবদুল মালেক। তারা তিন সহোদর ভাই। এই তিনজনের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে অস্ত্রধারি ডাকাত দল ‘বেলাল বাহিনী’। এই বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের বৃহত্তর উপজেলা চকরিয়া ও আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জমি দখল, চিংড়িঘের দখল, লবণের মাঠ ও আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসি কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে চকরিয়ার চরণদ্বীপ মৌজার গোলদিয়ায় ৭টি চিংড়িঘেরে হামলার সাথে এদের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী।
‘বেলাল বাহিনী’র প্রধান সেই বেলাল হোসেন ও তার দুই সহোদরসহ ৪ জন অস্ত্রধারি সন্ত্রাসিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫)। ওই সময় তাদের কাছ থেকে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫২ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন
গ্রেপ্তার হওয়া ৪ অস্ত্রধারি হলো চকরিয়ার আকবার আহমেদের ৩ ছেলে বেলাল হোসেন (৪৫), কামাল আহমেদ (৪২) ও আবদুল মালেক (৩২) এবং তাদের সহযোগী মৃত জহির আহমেদের ছেলে নুরুল আমিন (৩৫)। র্যাব দাবি করছে, এরা দেশি ও বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অন্য অস্ত্র দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাতো ও এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করতো।
কক্সবাজারে দায়িত্বরত র্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ল’ এন্ড মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু সালাম চৌধুরী এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার (২ জুলাই) দুপুরে র্যাব-১৫ হেডকোয়ার্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এই অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সোমবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ওই ৪ সন্ত্রাসিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখাও এই অভিযানে অংশ নিয়েছে।
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর মতবিনিময়
র্যাবের তথ্য মতে, অভিযানকালে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১২ বোরের ৪০ রাউন্ড, ৭.৬২ মি.মি. ১০ রাউন্ড ও ৭.৬৫ মি.মি. ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে- তারা মৌসুমের পর মৌসুম মাছের ঘের মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতো। ঘের মালিকরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বেলালের নেতৃত্বে ডাকাতি করে নিয়ে যেতো ঘেরের মাছ ও মাছ চাষের নানা উপকরণ। এছাড়াও মাছের ঘের তাদের দখলে নিয়ে নিতো এবং কর্মচারীদের মারধর করে তাড়িয়ে দিতো। এমনকি ঘের মালিক ও কর্মচারীদের অপহরণ করেও নিয়ে যেতো এবং মুক্তিপণ আদায় করতো।
র্যাবের তথ্য মতে, গ্রেপ্তার হওয়া বেলাল হোসেন একজন দুর্ধর্ষ ও চিহ্নিত অস্ত্রধারী ডাকাত। সে এলাকায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জমি দখল, চিংড়ি ঘের দখল, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। সে দীর্ঘদিন ধরে মাছের ঘের দখলসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজারের চকরিয়া থানায় ২টি হত্যা ও ১টি বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধে ৯টি মামলা রয়েছে।
অপরদিকে গ্রেপ্তার হওয়া কামাল আহমেদ পেশায় একজন কৃষক এবং পাশাপাশি ডাকাত চক্রের সদস্য। সে বেলালের আপন ভাই এবং তার অন্যতম সহযোগী। সে বেলালের নেতৃত্বে এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জমি দখলসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধেও কক্সবাজারের চকরিয়া থানায় ১টি পুলিশ এ্যাসল্ট ও ১টি অপহরণসহ ৬টি মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া আবদুল মালেক পেশায় একজন চিংড়ি ব্যবসায়ী। সে চিংড়ি ব্যবসার আড়ালে ডাকাতি করতো। সেও বেলালের অন্যতম সহযোগী। বেলালের নেতৃত্বে এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জমি দখলসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধেও চকরিয়া থানায় ৩টি মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া আরেকজন হলো নুরুল আমিন। সেও পেশায় একজন কৃষক এবং পাশাপাশি ডাকাত চক্রের সদস্য। সে বেলালের নেতৃত্বে এলাকায় ডাকাতি ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় মারামারির ১টি মামলা রয়েছে।
র্যাব-১৫ অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্ণেল এসএম সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত ৪ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।





