চাঁদা না পেয়ে ছাত্রলীগ কর্মীকে বোমা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা, সাজানো ঘটনায় জালালের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর ঝাড়ু মিছিল

Sanchoy Biswas
টঙ্গী প্রতিনিধি, গাজীপুর
প্রকাশিত: ৮:৪২ অপরাহ্ন, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৪:১৪ পূর্বাহ্ন, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চাঁদার টাকা না পেয়ে পরিকল্পিতভাবে বোমা (ককটেল) দিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ কর্মীকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। বিষয়টি ধরা পড়ার পর জালালের বিচার চেয়ে ঝাড়ু মিছিল করেছে এলাকাবাসী। তারা দ্রুত জালালকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। সেইসঙ্গে যাতে আর কেউ জালালের দ্বারা হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী জানান, মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ছাত্রলীগকর্মী নূরুনবী হৃদয়ের কাছে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল জালাল। সে মামলার ঝামেলা থেকে বাঁচতে ২ লাখ টাকা দেয় জালালকে। বাকি ১৩ লাখ টাকা না দেওয়ায় হুমকি দিয়ে আসছিল। শুক্রবার রাতে শাহজালাল তার সহযোগী অলিসহ নিজের প্রাইভেটকার নিয়ে নূরনবীর বাড়ির সামনে যায়। সে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই তার ফোন পেয়ে এলাকায় পুলিশ হাজির হয়। পুলিশ গিয়ে রাস্তার পাশে ককটেল দেখতে পায়। শনিবার দুপুরে পুলিশের বোমা ডিসপোজাল ইউনিট গিয়ে ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করে।

আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জে মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

এলাকাবাসী জানায়, হৃদয় গত কয়েক দিন যাবত এলাকা ছাড়া। সে ককটেল রাখলে তো আর রাস্তার পাশে রাখত না। নিশ্চয় সেগুলো লুকিয়ে রাখা হতো। মূলত হৃদয়ের বাড়িতে ককটেল রেখে পুলিশ ডেকে সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করেছে জালাল। এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। গ্রামের লোকজন জানান, জালাল এলাকার জেলে, ব্যবসায়ী, দোকানদার, ভ্যানচালকসহ সবার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে। দলে কোনো পদ না থাকলেও ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক, দখল ও মামলাবাণিজ্যসহ নানা অপকর্ম করছে জালাল।

হৃদয়ের মা জোসনা বেগম অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহজালাল কিছুদিন আগে তাঁদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা চাঁদা নেন এবং পরবর্তীতে আরও ১৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার বাকি টাকা না পেয়ে তাঁদের পরিবারকে এলাকাছাড়া করতে এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে বাড়ির সামনে ককটেল ও ব্যানার রেখে পুলিশে খবর দেন শাহজালাল।

আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে কালিগঙ্গায় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ: লাখো জনতার ঢল

হৃদয়ের চাচা সরাফত আলীর দাবি, ককটেল উদ্ধারের কিছুক্ষণ আগেই শাহজালালকে দলবলসহ একটি প্রাইভেটকার ও দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে তাঁদের বাড়ির সামনে থেকে ঘুরে যেতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, জালালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, চিহ্নিত চোলাই মদ প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতা অলি ককটেল তৈরির কারিগর হিসেবে এলাকায় পরিচিত। অলিকে দিয়েই শাহজালাল এসব ককটেল বানিয়ে হৃদয়কে ফাঁসানোর চেষ্টা করতে পারে।

এই বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বোমা নিষ্ক্রিয় দল গিয়ে এসব ধ্বংস করেছে। জালালের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ঝাড়ু মিছিল ও ঘটনা সাজানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, বিষয়গুলো অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগেও কমিটিতে জায়গা না পেয়ে স্থানীয় গুটিয়া শাহী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তালা মারার হুমকি দিয়েছিলেন গুটিয়া গ্রামের হকসাবের ছেলে জালাল। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়ায় সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম সীমান্তের ওপর হামলা করেছিলেন জালাল ও তার লোকজন। সেইসঙ্গে এলাকায় শতাধিক সন্ত্রাসীকে নিয়ে মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে সে। ওই সময় বেশ কিছু গণমাধ্যমে জালালের অপকর্ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তারপরও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।

এ ছাড়া গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক কমিটির সভাপতি পদ না পাওয়ায় বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ রয়েছে জালালের বিরুদ্ধে। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. খায়রুন্নেছা ওই সময় বলেন, স্কুলের অভিভাবক কমিটির সভাপতি পদ পেতে যে যে যোগ্যতা প্রয়োজন হয়, তা জালালের ছিল না। তারপরও ৫ আগস্টের পর তিনি জোরপূর্বকভাবে সভাপতি পদ নেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি প্রতিবাদ জানালে ক্ষেপে গিয়ে জালাল তাকে স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে অপবাদ দেন।

তবে সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে অ্যাডভোকেট শাহজালাল বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে এসব রটানো হচ্ছে।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, জালালদের বংশ ডাকাত গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। জালালের পরিবারের বিরুদ্ধে গুটিয়ার স্বর্ণা হত্যাকাণ্ড, হাছেন আলী হত্যাকাণ্ড, মালু হত্যাকাণ্ড, বাচ্চু হত্যাকাণ্ড, রামনাথের ছেলে শশী হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি করতে গিয়ে নদীতে ৫ জনকে খুন, দেলোয়ার এবং নজীব ও তার দুই ছেলেকে একসঙ্গে খুনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া গুটিয়ার কাশেম নামে একজনকে গুমের অভিযোগ রয়েছে তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।