বালু উত্তোলন বন্ধ হলেও থামেনি অবৈধ বালু বিক্রি
বগুড়া শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বড়ইতলী এলাকায় সরকারি অনুমোদন ব্যতি রেখে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হলেও থামেনি অবৈধ বালু বিক্রি।
গত ২০শে অক্টোবর বাংলাবাজার পত্রিকায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পরও শেরপুরের ঐতিহাসিক বাঙালি নদীতে থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ হলেও থামেনি অবৈধ বালু বিক্রির মহোৎসবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পূর্বের ন্যায় প্রকাশ্যে উত্তোলনকৃত বালু বিক্রি ও পরিবহন অব্যাহত রেখেছে স্থানীয় দুর্ধর্ষ বালু সিন্ডিকেট। কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণ ও বালু বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এই সংবদ্ধ চক্রে রয়েছে ১৫-১৭ জন অপরাধী।
আরও পড়ুন: সম্প্রীতির বাংলাদেশ গঠনে লতা ইউনিয়নের দুর্গাপূজা হয়ে থাকবে অনন্য দৃষ্টান্ত
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই অপকর্মের সঙ্গে ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামের নাম আসলেও পুলিশি জব্দ তালিকায় তিনি ঘটনার সাক্ষী হিসাবে স্বাক্ষর করেছেন। নদী লুণ্ঠনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, "নদী ও পরিবেশ ধ্বংস করে অবৈধ বালু তোলার সুযোগ নেই। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। "রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর চক্রটি রাতারাতি ভোল্ট পাল্টিয়ে করছে অবৈধ বালু ব্যবসা।
বিগত ২০২২ সালের বালু মহল মামলার (জিআর ৪৫৬/২২) শীর্ষ আসামি চার্লি ও তাঁর ভাই শ্রাবণ প্রকাশ্যে বালু বিক্রি করছেন। চক্রটিকে নেপথ্যে ছত্রছায়া দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতির (ছোট মতি) বিরুদ্ধে। মতি ফোনালাপে সংবাদটি বাদ দেয়ার অনুরোধ করলেও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এছাড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সোহানুর রহমান (লাভলু) ও সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশিদের (আপেল) বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আশ্রয়ের অভিযোগ থাকলেও প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, নদী থেকে বালু উত্তোলনের কোন ইজারা দেয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জে সাবেক যুবলীগ নেতা খাইরুদ্দিন মোল্লা গ্রেপ্তার
নদী গ্রাসের অতীত নথিপত্র বিশ্লেষণে উঠে আসে ভয়ঙ্কর তথ্য। বিগত ২০২০ সালের ৩রা অক্টোবর গজারিয়া গ্রামে অবৈধ পাইপলাইন অপসারণ অভিযানে তৎকালীন ইউএনও লিয়াকত আলী সেখের গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেয়া হয় ও কর্মচারী আহত হন। ঐ হামলা মামলা (জিআর ৪১৯/২০) ও বালু মহল মামলার (জিআর ৪৫৬/২২) চার্জশিট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এতে সক্রিয় এক পারিবারিক সিন্ডিকেট। গজারিয়া উত্তরপাড়ার মৃত আজিজার রহমানের চার ছেলে-আবু বক্কর, ওসমান গনি, হানিফ ও মোতালেব, আবুল হোসেন ও তার দুই ছেলে রাজু ও রানা, চার্লি ও শ্রাবণের পিতা মহব্বত সরকার, ফিরোজ চৌধুরী, শহিদুল মাস্টার, মোখলেসুর রহমান এবং দুই ভাই লিটন ও শাকিল সরকার এতে অভিযুক্ত।
অন্যদিকে বড়ইতলীর সাবেক আইনজীবী মুন্নাফ চৌধুরী ও তার দুই ভাই কামাল ও রাজ্জাক নেপথ্যে থেকে পুরো চক্রের মাস্টার মাইন্ড হিসাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন। আইন বিশেষজ্ঞরা জানান যে, সংবাদের পরও জামিনে থেকে বালু বিক্রি করা যাবে না মর্মে জামিনের শর্ত ও বালু মহল আইন-২০১০-এর লঙ্ঘন। এতে আসামিদের জামিন বাতিল ও মজুতকৃত বালু জব্দের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। পত্রিকায় নিউজের পরও বালু উত্তোলন বন্ধ হলেও থামেনি বালু বিক্রয়ের কার্যক্রম।
এবিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বলেন যে, "বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পূর্বের আসামিরা পুনরায় লুণ্ঠনে লিপ্ত থাকলে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। উচ্ছেদসহ মজুতকৃত বালু জব্দ অতি দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। "অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও চার্লি, বক্কর ও মুন্নাফদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। আসামি বক্করও দায় অন্যের ওপর চাপান। তবে মূল অভিযুক্ত চার্লি ও মুন্নাফ চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হোসেন বলেন যে, "সংসদ সদস্যের নির্দেশনা ও নতুন তথ্যের ভিত্তিতে নদী ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে কঠোর আইনগত বিধি-ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।





