কক্সবাজার সৈকতে প্রাণহানি: নিখোঁজ দুই পর্যটকের একজনের মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতের অনিরাপদ স্থানে গোসলে নেমে সাগরের ঢেউ ও স্রোতে ভেসে নিখোঁজ থাকা দুই পর্যটকের একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সৈকতে ভেসে আসা মরদেহটি মুহাম্মদ হারুন (২১) নামে এক তরুণের বলে শনাক্ত করেছেন তাঁর বন্ধুরা। তিনি চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার বাসিন্দা।
এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) হিমছড়ি জাদুঘর-সংলগ্ন সৈকতে গোসলে নেমে স্রোতে ভেসে তিন পর্যটক তরুণের মৃত্যু হয়। তাঁদের বাঁচাতে গিয়ে ঢাকার কয়েকজন পর্যটকও বিপদে পড়েন বলে প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁর সন্ধানে বীচ কর্মী, লাইফগার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক দল তল্লাশি চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন: সম্প্রীতির বাংলাদেশ গঠনে লতা ইউনিয়নের দুর্গাপূজা হয়ে থাকবে অনন্য দৃষ্টান্ত
বীচ কর্মী মাহবুব জানান, বুধবার বিকেলে হিমছড়ির ম্যারিনা রিসোর্টের জাদুঘর-সংলগ্ন সৈকতের অনিরাপদ স্থানে গোসলে নেমে স্রোতে ভেসে তিন পর্যটক তরুণের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা একজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। এ সময় আরও দুজন নিখোঁজ ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে ঢেউয়ের তোড়ে একটি মরদেহ সৈকতে ভেসে এলে তীরে অপেক্ষায় থাকা বন্ধুরা সেটি হারুনের বলে শনাক্ত করেন। পরে মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম জানান, বুধবার নিহত দুই তরুণ হলেন আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম (২৪) ও সাইবুল হক জিসান (২৩)। স্থানীয়রা তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করেন। এদিকে নিখোঁজ থাকা এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড় (২৩)-এর সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জে সাবেক যুবলীগ নেতা খাইরুদ্দিন মোল্লা গ্রেপ্তার
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর ঢাকার উত্তরা থেকে সাত তরুণ বান্দরবানের উদ্দেশে যাত্রা করেন। সেখানে দুই দিন ভ্রমণ শেষে ২১ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা কক্সবাজারে পৌঁছান। পরে শহরে না উঠে হিমছড়ির প্যাঁচার দ্বীপ জাদুঘর-সংলগ্ন ‘সৌরণেষ্ট’ নামের একটি রিসোর্টে ওঠেন। খাওয়া-দাওয়া ও বিশ্রামের পর বিকেল ৪টার দিকে তাঁরা সমুদ্রে গোসল করতে যান।
সূত্রের দাবি, ওই স্থানটি গোসলের জন্য নির্ধারিত এলাকা ছিল না। আরও জানা যায়, দলটির কেউই সাঁতার জানতেন না। গোসলের সময় কাছাকাছি থাকা আরও কয়েকজন যুবককে পানিতে ডুবে যেতে দেখে তাঁদের সাহায্য করতে এগিয়ে যান পর্যটকেরা। এ সময় সাতজনই স্রোতের কবলে পড়ে ভেসে যেতে থাকেন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। তাঁদের প্রচেষ্টায় একজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাকি দুজন নিখোঁজ ছিলেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের পুলিশ সুপার নিশাদ এঞ্জেলা জানান, নিখোঁজ দুজনের একজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। অপরজনের সন্ধানে একাধিক দল কাজ করছে। তিনি বলেন, সৈকতের ওই স্থানটি গোসলের জন্য পরিচিত নয় এবং সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে পর্যটকদের ধারণা নাও থাকতে পারে। সাঁতার না জেনেও সাগরে নামার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি পর্যটকদের প্রশাসন ও নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাবের সভাপতি মো. রেজাউল করিম বলেন, ইনানীর পাটুয়ারটেকে একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহত হওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই হিমছড়িতে পর্যটকদের মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তাঁর মতে, সৈকতে যেখানে-সেখানে গোসলে নামার ঝুঁকি সম্পর্কে পর্যটকদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে সাগরের ঢেউ ও স্রোত অনুকূলে না থাকলে পানিতে নামা প্রাণঘাতী হতে পারে।
সাগরে গোসলের আগে নির্ধারিত নিরাপদ এলাকা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া, বীচ কর্মী ও লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে চলা এবং সাঁতার না জানলে পানিতে না নামার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।





