সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন অপচেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১২:২৬ অপরাহ্ন, ০৪ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১২:২৬ অপরাহ্ন, ০৪ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক অবৈধভাবে পুশইনের ১০টি পৃথক অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বিজিবি। পাশাপাশি সম্ভাব্য পুশইন ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে যাদবপুর এলাকায় ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৯ কর্মকর্তার বদলি ও নতুন পদায়ন

একই জেলার সামন্তা বিওপি এলাকায় বিএসএফের একটি প্রিজন ভ্যানে করে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জনকে সীমান্ত গেট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় জনসাধারণের প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের আবার ভ্যানে তুলে অন্যত্র সরিয়ে নেয়।

যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর সীমান্তে কয়েকজন নারী-পুরুষকে পুশইনের উদ্দেশ্যে সীমান্তের কাছে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিজিবির সক্রিয় তৎপরতায় বিএসএফ তাদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

আরও পড়ুন: পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি পদোন্নতি পাচ্ছেন ১০ কর্মকর্তা

জয়পুরহাটের কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ জন ব্যক্তিকে একত্রিত করে পুশইনের প্রস্তুতির তথ্য পাওয়া যায়। বিষয়টি জানতে পেরে বিজিবি তাৎক্ষণিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ালে অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের বিপরীতে ভারতের ১৪৯ ও ৭১ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ ক্যাম্পের নিকটবর্তী তিনটি হোল্ডিং সেন্টারে এসআইআর (SIR) তালিকা থেকে বাদ পড়া চারজন মুসলিম নাগরিককে বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে বিজিবি সীমান্তে কড়া নজরদারি বজায় রেখেছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফের কাকরমনি ক্যাম্পের সদস্যরা দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে বিজিবির সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি।

পঞ্চগড়ের রওশনপুর সীমান্তে বিএসএফ একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইন করলে স্থানীয় জনগণ তাকে আটক করে বিজিবিকে খবর দেয়। পরে বিজিবি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্তের বিপরীতে ভারতের মালদা জেলার একটি হোল্ডিং সেন্টারে আটক ২২ জনকে পুশইনের উদ্দেশ্যে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে বিজিবি কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

সিলেটের উৎমাছড়া সীমান্তে স্থানীয়দের হাতে আটক দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়।

এদিকে নেত্রকোনার কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসাম রাজ্যের একটি বিদ্যালয়ে ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করে রাখা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সীমান্তের একটি অংশে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় ওই এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা বিবেচনায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থী যেকোনো পুশইন প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।