বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন, সরকার পাশে থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৪৪ অপরাহ্ন, ২৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১:৪৫ অপরাহ্ন, ২৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নতুন ও দূরদর্শী বিএনপি সরকার চায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে এসে নতুন উদ্যোগ নিন এবং ব্যবসা আরও বিস্তৃত করুন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক ‘এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: ইসি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তা কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারী—যে কেউ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে সরকার সময়োপযোগী নীতিমালা, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে তাদের পাশে থাকবে। এটি শুধু আশ্বাস নয়, সরকারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি করপোরেট প্রধান, সফল উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি প্রমাণ করে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তার, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালীকরণ এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ভাষানটেক ও কাফরুল থানায় নতুন ওসি নিয়োগ

নিজের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি নিজেও একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন, ব্যবসার সফলতা শুধু উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে না; বরং সরকারপ্রণীত প্রবৃদ্ধিবান্ধব নীতিমালাও বড় ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের রয়েছে বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও দক্ষ মানবসম্পদ, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনগণের সমর্থনপুষ্ট একটি নির্বাচিত সরকার। এসব শক্তি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নেবে।

তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা। নির্বাচনি ইশতেহারেও সেই অর্থনৈতিক রূপান্তরের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শুধু বিনিয়োগকারী হিসেবে নয়, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগেই অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার ভিত্তিতে বিনিয়োগবান্ধব সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের চাহিদা অনুযায়ী আইনি সুরক্ষা জোরদার, আধুনিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সহজ করব্যবস্থা, মুনাফা প্রত্যাবাসনের সুযোগ, শক্তিশালী পুঁজিবাজার এবং উন্নত অবকাঠামো গড়ে তুলতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

এ ছাড়া আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকায়ন, বিনিয়োগ সুরক্ষা, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি, কর ও ভ্যাট প্রশাসন সহজীকরণ, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন, পুঁজিবাজার উন্নয়ন, স্টার্টআপে উৎসাহ, অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ কমানো এবং বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তা উন্নয়নেও কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকস খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও আস্থাভিত্তিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর নির্ভর করে।