দুদকের সার্চ কমিটিতে সাবেক দুই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অসম্মতি

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:০৩ অপরাহ্ন, ২৪ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৯:০৩ অপরাহ্ন, ২৪ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে বাছাইয়ের জন্য গঠিত সার্চ কমিটির কাজ শুরু করেছে। সরকার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হককে প্রধান করে ৫ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করেছে।

দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে বাছাই কমিটি দুইজন করে প্রার্থীর নামের তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে।

আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দরে হারানো ব্যাগ উদ্ধার, আনসারের সততায় ফিরল পাসপোর্ট ও ডলার

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদ শূন্য হওয়ার ১১০ দিন পর সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে নতুন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

দুদকের কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ (বাছাই) কমিটি গঠন করে গত সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

আরও পড়ুন: পবিত্র আশুরা ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে: ডিএমপি কমিশনার

আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হককে কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিল, বাংলাদেশের মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ৭ ধারা অনুযায়ী কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ দিতে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুদকের কমিশনারের প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে বাছাই কমিটি দুইজন করে প্রার্থীর নামের তালিকা করবে। পরে সেই তালিকা নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে।

বাছাই কমিটির কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সচিবালয় সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রজ্ঞাপনে সার্চ কমিটিতে সদ্য সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সদস্য রাখার আইন থাকলেও বর্তমান কর্মরত মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সদস্য করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটি গঠনের আইনের ৭ অনুচ্ছেদের (ঙ) উপধারায় বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিবদের মধ্যে সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব ৫ নম্বর সদস্য হবেন। তবে শর্ত থাকে যে, যদি উক্তরূপ অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে পাওয়া না যায় অথবা তিনি বাছাই কমিটির সদস্যপদ গ্রহণে অসম্মত হন, তাহা হইলে সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অব্যবহিত পূর্বের অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব; আরও শর্ত থাকে যে, যদি উক্তরূপ কোনো অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে পাওয়া না যায় অথবা তিনি বাছাই কমিটির সদস্যপদ গ্রহণে অসম্মত হন, তাহা হইলে বর্তমান কর্মরত মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক দেওয়া প্রজ্ঞাপনে দেখা যায়, (ঙ) কলামে বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সার্চ কমিটির সদস্য করা হয়েছে। বিষয়টি ব্যতিক্রম হওয়ায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত দুইজন মন্ত্রিপরিষদ সচিব দেশে অবস্থান করলেও তাদের রাখা হয়নি। এক্ষেত্রে তারা সার্চ কমিটিতে সদস্য থাকতে অসম্মতি মর্মে জানা যায়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেই আইন অনুযায়ী ফাইল সম্পাদন করেছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিবদের মধ্যে সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত সচিব হলেন শেখ আব্দুর রশিদ। এর আগে অবসর গ্রহণ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন। তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

দুদকের সার্চ কমিটি গঠনের আইন প্রসঙ্গে আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. সাধীন মালিক বলেন, আইন অনুযায়ী সার্চ কমিটিতে হয়তো তারা অসম্মতি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া মেনেই হয়তো তারা সার্চ কমিটি করেছেন।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

গত মার্চ দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেনের কমিশন পদত্যাগ করার পর ৪ মার্চ থেকে সংস্থাটির শীর্ষ পদটি শূন্য রয়েছে। একই সময়ে দুই কমিশনারের পদও খালি হয়।

এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে কমিশন ছাড়াই সংস্থাটির কার্যক্রম চলছিল। ফলে নতুন কোনো অভিযোগ অনুসন্ধান বা মামলা অনুমোদনের প্রক্রিয়াও বন্ধ ছিল। নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও এতদিন সার্চ কমিটি গঠন করা হয়নি।

দুদক আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের আগে একটি বাছাই কমিটি গঠন করতে হয়। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন।