বর্জ্যের বিনিময়ে নিত্যপণ্য, পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে ডিএসসিসি-বিদ্যানন্দের উদ্যোগ
পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সহায়তার লক্ষ্যে ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ কর্মসূচি শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।
সোমবার রাজধানীর ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাজারীবাগ বস্তি সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
আরও পড়ুন: ধানমন্ডিতে ৩৮ লাখ টাকা ডাকাতি, অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার ৩
উদ্বোধন শেষে স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য জমা দিয়ে অস্থায়ী স্টল থেকে চাল, ডাল, তেল, লবণ, আলু ও টিস্যুসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য সংগ্রহ করেন।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ নাগরিকদের সেই অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার একটি কার্যকর মডেল।
আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুর-শ্যামলীতে অটোরিকশা উচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন করা হলো অবৈধ চার্জিংয়ের বৈদ্যুতিক সংযোগ
তিনি বলেন, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ড্রেন ও নালা-নর্দমায় ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। নাগরিকরা নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য জমা দিলে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাও সম্ভব হবে।
জনসম্পৃক্ত এই সচেতনতামূলক কর্মসূচি নগরজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গুলিস্তানে একটি স্থায়ী স্টল নির্মাণ করা হবে। এছাড়া আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে ডিএসসিসির প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে স্থায়ী স্টল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের (এসটিএস) সুবিধাজনক স্থানে পথশিশুদের জন্য চেয়ার-টেবিল ও বইসহ ‘বই পড়ার বিনিময়ে খাবার’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রান্তিক মানুষকে শুধু সাহায্য না দিয়ে পরিচ্ছন্নতার অংশীদার করছি।’
তিনি জানান, গত দুই বছরে প্লাস্টিক বর্জ্য বিক্রি করে প্রায় ১ কোটি টাকা আয় হয়েছে। ওই অর্থ দিয়ে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে আহার করানো সম্ভব হয়েছে।
ডিএসসিসি ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে নেওয়া এই প্রকল্পের আওতায় আগামী এক বছরে ১০০টি ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ কেজি বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিন, সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।





