এপ্রিলে এলো ৩১২ কোটি ডলার

পাঁচ মাসে ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রেমিট্যান্স

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:৪৮ অপরাহ্ন, ০৩ মে ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪৮ অপরাহ্ন, ০৩ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিদায়ী এপ্রিলেও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স)। মাসটিতে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, ফলে টানা পাঁচ মাস ধরে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স প্রবাহ বজায় থাকল। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ধর্মীয় উৎসবকেন্দ্রিক অর্থপ্রবাহ—এই তিনের সম্মিলিত প্রভাবে রেমিট্যান্সে এ ধারাবাহিক উত্থান দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

রোববার ( ৩ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। এর আগে মার্চে সর্বোচ্চ ৩৭৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহের রেকর্ড গড়ে। সেই ধারাবাহিকতায় এপ্রিলেও তিন বিলিয়নের ওপরে অবস্থান ধরে রাখা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারণ, সন্ধ্যা থেকে কার্যকর

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ পেরিয়ে এপ্রিলেও অব্যাহত রয়েছে। ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স আসে ৩২২ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি এবং মার্চে ৩৭৫ কোটি ডলার। অর্থনীতিবিদদের মতে, এ প্রবণতা সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

ব্যাংকাররা বলছেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরান-সম্পর্কিত উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে প্রবাসীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বাড়িয়েছে। এ ছাড়া ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় প্রবাসীরা দেশে অর্থ পাঠিয়ে তুলনামূলক বেশি স্থানীয় মুদ্রা পাচ্ছেন—এটিও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

আরও পড়ুন: অ্যাসেন্ট হেলথে স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা পাবেন ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কার্ডহোল্ডাররা

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এই প্রবাহ আরও জোরদার হতে পারে। উৎসবকেন্দ্রিক ব্যয়ের চাপ এবং পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে প্রবাসীরা বাড়তি অর্থ পাঠিয়ে থাকেন—এ প্রবণতা আগের বছরগুলোর মতো এবারও বজায় থাকতে পারে।

তবে ইতিবাচক এ প্রবণতার মাঝেও সতর্কবার্তা দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের ওপরও। বিশেষ করে তেলবাজার, আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে দেশের খ্যাতনামা আটজন অর্থনীতিবিদ সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাদের মতে, বৈশ্বিক সংকটের মাত্রা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, তবে সম্ভাব্য ধাক্কা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জরুরি।

অর্থনীতিবিদরা আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নীতি সুদহার কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া ঠিক হবে না। এতে ডলারের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। বরং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঋণের সুদহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, রেমিট্যান্সের এ ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই প্রবাহকে টেকসই রাখতে হলে সতর্ক ও দূরদর্শী নীতি সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।