ইরানকে সহযোগিতা : ৩৫ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের তথাকথিত ‘ছায়া ব্যাংকিং’ ব্যবস্থার মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগে ৩৫টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ। চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই পদক্ষেপকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বুধবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসনের দাবি—এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি ডলারের অবৈধ তহবিল স্থানান্তর করা হয়েছে, যা ইরানের সামরিক কার্যক্রম ও আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়নে ব্যবহৃত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের 'মেঘ চুরি' করছে যুক্তরাষ্ট্র?

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে জানান, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বিকল্প আর্থিক চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনা করছিল। তিনি বলেন, এই ‘ছায়া ব্যাংকিং’ কাঠামো ইরানকে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার ও অস্থিতিশীলতা তৈরিতে সহায়তা করেছে।

ওয়াশিংটনের মতে, এই অর্থপ্রবাহ বন্ধ করা গেলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রভাব কমবে। বিশেষ করে বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

আরও পড়ুন: আল-কায়েদা নেতার খোঁজে ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

এই নিষেধাজ্ঞা এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা অচলাবস্থায় রয়েছে। একদিকে তেহরান যুদ্ধ বন্ধে প্রস্তাব দিচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি অব্যাহত রেখেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় ইরানকে নমনীয় করতে বাধ্য করতেই এই অর্থনৈতিক অবরোধ জোরদার করা হয়েছে। তবে ইরান জানিয়েছে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা নতুন কিছু নয় এবং তাদের নীতিগত অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে উত্তেজনা, জাহাজ জব্দ এবং সামরিক অবস্থান জোরদারের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। নতুন নিষেধাজ্ঞা ইরানের তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তেহরান তাদের কার্যক্রমে মৌলিক পরিবর্তন না আনা পর্যন্ত এই ধরনের অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে।