ডাটা ত্রুটিতে আটকে আবাসন বৃত্তির অর্থ, ভোগান্তিতে জবির প্রায় হাজার শিক্ষার্থী

Sanchoy Biswas
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:১৩ অপরাহ্ন, ২৮ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১১:৫৫ অপরাহ্ন, ২৮ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী দীর্ঘ দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে আবাসন বৃত্তির টাকা না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক সপ্তাহের মধ্যে অর্থ বিতরণের আশ্বাস দিলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও একটি বড় অংশের শিক্ষার্থীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছায়নি।

আরও পড়ুন: ভিসি চত্বরে তরুণকে আটকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের দেওয়া ব্যাংক তথ্যের ডাটা ত্রুটি এবং ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয়জনিত জটিলতার কারণে অর্থ বিতরণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এক সপ্তাহের মধ্যে আবাসন বৃত্তির টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে বিলম্বের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ফলে অনেকেই প্রতিদিন ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করেও নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাননি।

আরও পড়ুন: এ বি এম আব্দুল্লাহর ইমেরিটাস নিয়োগ বাতিল: আইন, স্বচ্ছতা ও সুশাসনের ব্যাখ্যা দিল বিএমইউ

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, ডাটা এন্ট্রির সময় সবচেয়ে বেশি ভুল হয়েছে শিক্ষার্থীদের নাম লেখার ক্ষেত্রে। অনেকেই নামের মধ্যে বা শেষে অপ্রয়োজনীয় ডট (.) ও হাইফেন (-) ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে “Md.” বা “Mst.”-এর মতো সংক্ষিপ্ত রূপে ডট ব্যবহারের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সফটওয়্যার তথ্য গ্রহণ করতে পারেনি।

এ ছাড়া ট্রাস্ট ব্যাংকের অ্যাকাউন্টধারীদের ক্ষেত্রে আলাদা জটিলতা দেখা দিয়েছে। ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপে চারটি সংখ্যার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি হাইফেন থাকলেও অনেক শিক্ষার্থী সেই হাইফেনসহ অ্যাকাউন্ট নম্বর জমা দিয়েছেন, যা সিস্টেমে ত্রুটি হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।

তারা আরও জানান, অনেক শিক্ষার্থী ব্যাংকের পূর্ণ নামের পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত নাম লিখেছেন। কারও ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট নম্বর ও রাউটিং নম্বর ভুল রয়েছে। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্রে থাকা নামের সঙ্গে ব্যাংক হিসাবের নামের অমিল থাকায়ও অনেক আবেদন জটিলতায় পড়েছে।

বিপুল সংখ্যক ত্রুটিপূর্ণ তথ্য ম্যানুয়ালি যাচাই ও সংশোধন করতে গিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত সময় কাজ করছে। ইতোমধ্যে কয়েকশ ডাটা সংশোধন করা হলেও বড় ধরনের ত্রুটিগুলো সমাধান না হলে অর্থ বিতরণ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।

ব্যাংক সূত্র জানায়, মোট ডাটার মধ্যে প্রায় ৮৩২টি আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ফেরত এসেছে। এর মধ্যে ৪৫০ থেকে ৫০০টি ডাটায় গুরুতর (মেজর) ত্রুটি রয়েছে, যা ব্যাংক কর্মকর্তাদের পক্ষে নিজেরা সংশোধন করা সম্ভব নয়। এসব তথ্য সংশোধনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ফেরত পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত (বৃত্তি) সহকারী রেজিস্ট্রার মাসুদ আলম জানান, অনেক শিক্ষার্থী ব্যাংক তথ্য প্রদান করার সময় নামের স্থানে ভুলভাবে শাখার (ব্রাঞ্চ) নাম ও রাউটিং নম্বরের মতো তথ্য উল্লেখ করেছেন। ফলে ডাটায় ত্রুটি তৈরি হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও জানান, এ সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি সভা করেছে। ব্যাংক থেকে ত্রুটিপূর্ণ ডাটাগুলো পুনরায় প্রেরণ করা হলে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের অসতর্ক তথ্য প্রদান, তথ্য যাচাইয়ের ঘাটতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ব্যাংকের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাবই আবাসন বৃত্তির অর্থ বিতরণে দীর্ঘ বিলম্বের প্রধান কারণ।