সংসদে মাদক ও সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের দুটি বিল উত্থাপন

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, ২৮ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, ২৮ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে দুটি পৃথক বিল উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে মাদক অপরাধ দমনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল পুনর্বহাল এবং সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে অনলাইন জুয়ার অপরাধসংক্রান্ত বিধান বাদ দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিল দুটি উত্থাপন করেন। পরে বিল দুটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন: নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি, গভীর শোক প্রধানমন্ত্রীর তারিক রহমানের

বিল উত্থাপনের আগে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ সদস্যদের আগাম অবহিত না করার অভিযোগ তুলে আপত্তি জানান। তবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, বিলের নোটিশ দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা মার্জনা করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা আগে জানানো উচিত ছিল।

দিনের সম্পূরক কার্যসূচিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল উত্থাপন করেন।

আরও পড়ুন: বম্বে সুইটসের পাঁচ মসলাসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাধারণ আদালতে মামলার অতিরিক্ত চাপ থাকায় মাদক-সংক্রান্ত মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই মাদকপ্রবণ এলাকাগুলোতে পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান পুনরায় চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সাধারণ আদালতের বিচারিক এখতিয়ার বহাল থাকবে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে প্রযুক্তিনির্ভর মাদক অপরাধ, বিশেষ করে সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধ মোকাবিলায় নতুন বিধান যুক্ত করার পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ক্ষমতা এবং ডগ স্কোয়াড গঠনের বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল উত্থাপন করেন। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে অনলাইন বা সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার অপরাধ ও শাস্তির বিধান বাদ দেওয়া হবে। সরকার এ বিষয়ে পৃথক জুয়া প্রতিরোধ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুটি বিলই পরীক্ষা করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।

বিল উত্থাপনের পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিল দুটি তাৎক্ষণিকভাবে উত্থাপনের মতো কোনো জরুরি প্রয়োজন ছিল না। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং বিদ্যমান আইন ও প্রস্তাবিত সংশোধনীর তুলনামূলক বিশ্লেষণ সংসদ সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা উচিত ছিল।

এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিল দুটি এখন কেবল উত্থাপন করা হয়েছে, পাস করা হয়নি। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা চলাকালে সংশোধনের সুযোগ থাকবে। তাই এই পর্যায়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণ বিতরণ করা হয়নি।