দু’দিন পর বিরল আংশিক চন্দ্রগ্রহণ, দেখা যাবে তিন মহাদেশ থেকে
চলতি বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় মহাজাগতিক ঘটনা হিসেবে আগামী ২৮ আগস্ট গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ ঘটতে যাচ্ছে। পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান করে এবং পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে, তখন চন্দ্রগ্রহণের সৃষ্টি হয়।
এই আংশিক চন্দ্রগ্রহণ উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দেখা যাবে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত থেকে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের মধ্যবর্তী সময়ে গ্রহণটি ঘটবে। এ সময় পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদের পৃষ্ঠের বড় একটি অংশ ঢেকে যাবে।
আরও পড়ুন: বর্ণিল আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় ২৮ আগস্ট ভোর ৪টা ১২ মিনিটে গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায় দেখা যাবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি সকাল ১০টা ১২ মিনিটে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা।
আমেরিকা মহাদেশের অধিকাংশ অঞ্চল থেকে চন্দ্রগ্রহণটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। তবে ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু অঞ্চল থেকে আকাশপ্রেমীরা সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের সময় গ্রহণের আংশিক দৃশ্য দেখতে পারবেন।
আরও পড়ুন: নব্বই দশকের ট্রেন্ডিং ছবি ভাইরাল, বানাতে পারবেন আপনিও-দেখুন সেরা ২০ প্রম্পট
এটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ নয়। ফলে পুরো চাঁদ পৃথিবীর গভীরতম ছায়ায় ঢেকে যাবে না। চাঁদের একটি অংশ মূল ছায়ার বাইরে থাকবে। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো যাওয়ার সময় আলো বিচ্ছুরিত ও প্রতিসরিত হয়ে গ্রহণকবলিত চাঁদের অংশে লালচে বা তামাটে আভা তৈরি করতে পারে। এ ধরনের দৃশ্যকে সাধারণভাবে ‘ব্লাড মুন’ বলা হয়।
চন্দ্রগ্রহণটি পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলবে। তবে গভীর আংশিক পর্যায় স্থায়ী হবে তুলনামূলকভাবে কম সময়। নাসা ও জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ পর্যায়ে চাঁদের ব্যাসের প্রায় ৯৩ শতাংশ অংশ পৃথিবীর মূল ছায়ার মধ্যে অবস্থান করবে।
এর আগে গত ১২ আগস্ট গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা গেছে। এর দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময় পরই এই চন্দ্রগ্রহণ ঘটতে যাচ্ছে। সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ নির্দিষ্ট সরলরেখায় অবস্থান করায় সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সাধারণত কাছাকাছি সময়ে জোড়ায় সংঘটিত হয়।
সূর্যগ্রহণের বিপরীতে চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণের সময় চোখের জন্য বিশেষ সুরক্ষা সরঞ্জামের প্রয়োজন হয় না। খালি চোখেই নিরাপদে চন্দ্রগ্রহণ দেখা যায়। চাইলে সাধারণ বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করে চাঁদের পরিবর্তিত রূপ আরও স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি





