ভয়াবহ বন্যায় তছনছ নেপালের রসুয়া, নিহত ৯৫, নিখোঁজ শত শত পর্যটক

Sanchoy Biswas
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৩ অপরাহ্ন, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৯:৩৬ অপরাহ্ন, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নেপাল-তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন রসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। পাহাড়ধস ও বরফধসের পর সৃষ্ট প্রবল পানির স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্প ভেসে গেছে। রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে অন্তত ৯৫ জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শত শত মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) আকস্মিক এ বন্যা রসুয়া জেলার ভোতেকোশি নদী ও আশপাশের এলাকায় আঘাত হানে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই কাদা, পলি ও পানির বিশাল স্রোত নদীর তীরবর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে মানুষকে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক কানাডার

বন্যায় রসুয়া ছাড়াও নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতু ধ্বংস হওয়ায় সীমান্ত এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। নুয়াকোট থেকে রসুয়াগাড়ি সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ৪২ কিলোমিটার সড়ক বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের সড়ক বিভাগ।

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পর প্রায় ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। বিদেশিদের মধ্যে অন্তত ১০৫ জন ভারতীয় ও ১২ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: মক্কা চুক্তিতে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্যকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে: রয়টার্স

রসুয়া হয়ে তিব্বতের কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নিতে যাওয়া বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রীও বন্যার কারণে যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই ভারতীয় নাগরিক।

এ ছাড়া রসুয়া এলাকায় নেপাল পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যদেরও নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ৬০ কর্মীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বন্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, একটি বরফধসের কারণে লেন্দে নদীর গতিপথে বাধা তৈরি হয়। পরে সেই বাধা ভেঙে বিপুল পানি নেমে এসে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।

কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিজন ভক্ত কায়স্থের প্রাথমিক মূল্যায়নেও বরফধসের কারণে নদীর গতিপথ আটকে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। একই সময় তিব্বত এলাকায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্পও হয়েছিল। তবে ভূমিকম্পটি বন্যার সূত্রপাতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

দুর্যোগকবলিত এলাকায় নেপাল সেনাবাহিনী, নেপাল পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।

নেপাল সরকার দুর্গতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।