যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক কানাডার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি কানাডীয় ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্যে এ শুল্ক বসানো হবে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) কানাডার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। নতুন শুল্ক আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
কানাডার পাল্টা শুল্কের তালিকায় ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, আসবাবপত্র, পোশাক, প্রসাধনী, মাছ ও সামুদ্রিক খাবারসহ প্রায় ৯০০ ধরনের মার্কিন পণ্য রয়েছে।
আরও পড়ুন: মক্কা চুক্তিতে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্যকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে: রয়টার্স
যেসব পণ্যে কত শুল্ক
কানাডার প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী—
আরও পড়ুন: এসি বিস্ফোরণে পাকিস্তানের হাসপাতালে ১৫ নবজাতকের মৃত্যু
ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক;
মধু, আসবাবপত্র, পোশাক, প্রসাধনী ও সুগন্ধিসহ বিভিন্ন পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক;
ওয়াশিং মেশিন, বাসন ধোয়ার যন্ত্র, পনির, মাছ ও সামুদ্রিক খাবারে ২৫ শতাংশ শুল্ক;
কিছু যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম, পণ্য ওঠানামার যন্ত্র এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে ১৫ শতাংশ শুল্ক।
কানাডার কর্মকর্তারা বলেছেন, তালিকায় এমন পণ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো প্রয়োজনে দেশটির ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা অন্য দেশ থেকেও সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে পাল্টা শুল্কের কারণে কানাডার অর্থনীতিতে ক্ষতির মাত্রা কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।
কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্ক কানাডার শ্রমিক, ব্যবসা ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ওপর বাস্তব প্রভাব ফেলবে। তাই কানাডাকে এর জবাব দিতে হচ্ছে। তার ভাষায়, কানাডার পাল্টা পদক্ষেপ হবে অনুপাতভিত্তিক ও কৌশলগত।
এদিকে মার্কিন শুল্কে ক্ষতিগ্রস্ত কানাডার ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের সহায়তায় অতিরিক্ত ৭৫০ কোটি কানাডীয় ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। চাকরি হারানো কমানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখাই এ সহায়তার লক্ষ্য।
সাম্প্রতিক বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। দুই পক্ষই আলোচনার শেষ পর্যায়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।
কানাডার পাল্টা শুল্ক ঘোষণার পর হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, সাম্প্রতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কানাডাকে অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি সুবিধাজনক বাজারসুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। তবে কানাডা অযৌক্তিক দাবি এবং আলোচনায় বারবার অবস্থান পরিবর্তনের পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।
অন্যদিকে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে কানাডার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ঠকানোর’ অভিযোগ করে আসছেন। দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও তিনি একাধিকবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে কানাডা থেকে আমদানি করা গাড়ির ওপর ১ জানুয়ারি থেকে শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার হুমকিও দিয়েছেন। এর জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প কানাডার গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম শিল্প ধ্বংস করতে চাইছেন।
তবে পাল্টাপাল্টি শুল্কের মধ্যেও আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। অন্টারিওর মুখ্যমন্ত্রী ডগ ফোর্ড জানিয়েছেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ভালো চুক্তি করতে চান। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে বিদ্যমান উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা দুই দেশের সরবরাহব্যবস্থায় খরচ বাড়লে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সাধারণ ভোক্তাদের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। সূত্র: বিবিসি





