স্বামীর শেষ বিদায়ে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেলেন দীপু মনি

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২৯ পূর্বাহ্ন, ২০ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, ২০ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

স্বামীর শেষ বিদায় জানাতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬টায় মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।

কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পুলিশ পাহারায় দীপু মনিকে রাজধানীর কলাবাগানে তার নিজ বাসভবনে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে তিনি স্বামী তৌফিক নেওয়াজের মরদেহ দেখবেন।

আরও পড়ুন: ২৫ কোটি গাছের লক্ষ্য, শিক্ষার্থীদের ‘একটি করে গাছ’ লাগাতে বললেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. জান্নাত-উল ফারহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার জন্য দীপু মনিকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী পুলিশি পাহারায় তাকে ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষ হলে তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

এর আগে বুধবার মুন্সিগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী দীপু মনির বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্যারোলে মুক্তির আবেদন অনুমোদন করেন।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার সঙ্গে পৃথিবীর কোনো ফ্যাসিস্টের তুলনা হয় না: রিজভী

বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম জানান, চার দিনের প্যারোল চেয়ে আবেদন করা হলেও জেলা প্রশাসক ১২ ঘণ্টার প্যারোল মঞ্জুর করেছেন। সেই অনুযায়ী ২০ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্যারোল কার্যকর থাকবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় আসামি হয়ে দীপু মনি মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী রয়েছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তার প্যারোলে মুক্তির আবেদন করতে বুধবার সকালে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে যান তার মেয়ে তানী দীপাবলি ও আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম। সেখানে তানী দীপাবলি মায়ের সঙ্গে দেখা করেন। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে প্যারোলের আবেদন করেন।

দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিটে রাজধানীর গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি ও লিভারের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। কয়েক দিন আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্যারোলে মুক্তির আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে আইনজীবী ফয়সাল ইসলাম বলেন, কারা আইন ও কারাবিধিতে দিনের বেলায় ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ার রয়েছে। সেই বিধান অনুসারেই দীপু মনিকে ১২ ঘণ্টার প্যারোল দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই প্যারোল পাওয়া গেছে। সরকার চাইলে এর চেয়েও বেশি সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার সুযোগ ছিল বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন দীপু মনি। এরপর থেকে সংশ্লিষ্ট মামলায় তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী রয়েছেন।