পল্লবীতে ‘দখল সিন্ডিকেটের’ ছক
শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের সঙ্গে বিএনপি সভাপতির অডিও ফাঁস
রাজধানীর মিরপুর-পল্লবীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর একটি অডিও রেকর্ডিং কথোপকথন ফাঁস হয়েছে যাহা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। অডিওটির বিষয়ে দাবি করা হচ্ছে, এতে পল্লবী থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. আনিসুর রহমান এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের মধ্যে কথোপকথন রয়েছে।
ফাঁস হওয়া কথোপকথনের অডিওতে তাদের গার্মেন্টস কারখানা, ফ্যাক্টরি ও জমি-প্রপার্টি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা করতে শোনা যায়—এমন অভিযোগ উঠেছে। পল্লবী এলাকায় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিমানবন্দরে মামলায় জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার
স্থানীয়দের অভিযোগ, পল্লবী-মিরপুরে মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যেই একজন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসীর এমন কথোপকথনের অডিও সামনে আসায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে বলছেন, কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কিংবা অপরাধীচক্রের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, জমি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আরও পড়ুন: ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত
এদিকে, শাহাদাতকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা হয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে বা আত্মগোপনে থেকে অপরাধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে এর সঙ্গে অন্য আর কেউ জড়িত আছে কিনা বা জড়িত কি না—সেটিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
সচেতন মহলের দাবি, অডিওতে ওঠে আসা অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নির্দোষ হলে তাদের হয়রানি থেকে রক্ষা করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই যদি সন্ত্রাস অপরাধীচক্রের লাগাম টেনে ধরা না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই পল্লবীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।





