হরিরামপুর উপজেলাকে দুর্গম চরাঞ্চল ঘোষণার দাবি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলাকে দুর্গম চরাঞ্চল হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ দাবিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানোর জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, পদ্মা নদীবেষ্টিত হরিরামপুর উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান ও অব্যাহত নদীভাঙনের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে লেছড়াগঞ্জ, সুতালড়ি ও আজিমনগর ইউনিয়ন সম্পূর্ণরূপে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া কাঞ্চনপুর, গোপীনাথপুর, রামকৃষ্ণপুর, বয়ড়া, হারুকান্দি, বলড়া ও ধুলশুড়া ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। অন্যদিকে, চালা ইউনিয়ন বিল-বাঁওড়বেষ্টিত হওয়ায় সেখানেও যোগাযোগব্যবস্থায় নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।
আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
আবেদনকারীদের ভাষ্যমতে, হরিরামপুর উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান, নদীভাঙন, দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় উপজেলাটিকে দুর্গম চরাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা জরুরি। এর মাধ্যমে দুর্গম এলাকার জনগণের জন্য সরকারি সেবা সহজলভ্য করা, উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিরসনে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে।
এ অবস্থায় হরিরামপুর উপজেলাকে দুর্গম চরাঞ্চল হিসেবে ঘোষণার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠাতে জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আবেদনকারীরা।
আরও পড়ুন: তিন হাজার টাকায় পরীক্ষায় পাশ, দিতে হয় না স্বাস্থ্য সনদ
স্থানীয়রা অনেকে জানান, ভৌগোলিক অবস্থান, নদীভাঙন, যোগাযোগব্যবস্থা,শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় হরিরামপুরকে দুর্গম উপজেলা হিসেবে সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি বলে অনেকেই মনে করেন। হরিরামপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে আবেদনটি দাখিল করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুলিপি হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য,নির্বাচন কমিশনের তালিকায় দূর্গম কিন্তু জনপ্রশাসনের গেজেটে নেই দূর্গম চরাঞ্চল হিসেবে হরিরামপুর উপজেলা। নিয়মিত বেতন-ভাতার পাশাপাশি দুর্গম এলাকার জন্য প্রযোজ্য ২০ শতাংশ ভাতা পাওয়ার সুযোগ চান সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে এই ভাতা চালুর বিষয়টি সম্পূর্ণ সংশ্লিষ্ট সরকারি নীতিমালা ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা মুঠোফোন বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ আমাকে একটি স্মারক লিপি দিয়েছে। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার চেষ্টা করছি।
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল বারেক মুঠোফোনে বলেন, হরিরামপুর উপজেলা নির্বাচন কমিশনের তালিকায় দূর্গম কিন্তু জনপ্রশাসনের গেজেটে এখনো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে আমরা এ বিষয়ে চেষ্টা করছি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে।





