কলেজছাত্রী ও তার বাবাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে শিবিরের নিন্দা
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নে এক কলেজছাত্রী (২৩) ও তার বৃদ্ধ বাবাকে (৭০) বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটি ঘটনাটিতে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চরমোন্তাজ ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় চরমোন্তাজ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি তারিকুল ইসলাম মিঠু এবং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা রেজাউল মাতব্বরের ছেলে সায়মুন মাতব্বর ওই নারী শিক্ষার্থীকে অশ্লীল ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বললে তিনি প্রতিবাদ করেন। এর জেরে হামলাকারীরা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার বাবাকে প্রকাশ্যে বিবস্ত্র করে বেদম মারধর করে। বর্তমানে তারা গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরও পড়ুন: চবি’তে ৩ হাজার শিক্ষার্থীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প বন্ধের অভিযোগ জিএস হাবীবের বিরুদ্ধে
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে পটুয়াখালী জেলা শিবির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম নূর ও সেক্রেটারি কে.এম. তামিম এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, “ঘটনাটি মানবতাবিরোধী ও বর্বরোচিত। নারী শিক্ষার্থী ও তার বৃদ্ধ বাবাকে প্রকাশ্যে অপমান করা কোনোভাবেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না।”
আরও পড়ুন: এভারেস্ট জয়ী ঢাবির শিক্ষার্থী নুরুন্নাহার নিম্নিকে সংবর্ধনা
তারা আরও অভিযোগ করেন, “ছাত্রদল রীতিমতো নারী নিপীড়নের দলে পরিণত হয়েছে। শুধু গত এক বছরেই সারা দেশে অন্তত ৪৪টি ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতা গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। নিজেদের কর্মীরাও এমন ন্যক্কারজনক আচরণের শিকার হয়েছে।”
নেতৃবৃন্দ বলেন, “দলীয় অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে ছাত্রদল এখন দায় চাপানোর রাজনীতি করছে। ধর্ষণ, নির্যাতন বা সাইবার বুলিংয়ের মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং প্রতিবারই নামমাত্র বহিষ্কারের নাটক মঞ্চায়ন করা হয়।”
ছাত্রশিবির নেতারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “উক্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের যথাযথ নিরাপত্তা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।”
বিবৃতির শেষে তারা ছাত্রদলকে “নারী নির্যাতন, আধিপত্য বিস্তার ও দায় চাপানোর ন্যক্কারজনক রাজনীতি” থেকে সরে এসে “সত্য, ন্যায় ও গঠনমূলক রাজনীতি” চর্চার আহ্বান জানান।





