জকসুর ভোটগ্রহণ কাল, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচনের প্রতীক্ষায় শিক্ষার্থীরা

Sanchoy Biswas
আরাফাত চৌধুরী, জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:২২ অপরাহ্ন, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫৬ অপরাহ্ন, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল (৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্থগিত হওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর এটিই প্রথম শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গত ৩০ ডিসেম্বর জকসুর ভোটগ্রহণের দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর এলে জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে নির্বাচন স্থগিত করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বারবার নির্বাচন পেছানোয় সেদিন প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদও করেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল আইওআই ওশান একাডেমি

অবশেষে আগামীকাল ৬ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের জন্য নতুন তারিখ ধার্য করা হয়। রবিবার (৪ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন আগামীকাল মঙ্গলবার হবে বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল মঙ্গলবার জকসু আয়োজনের বিষয়ে সিন্ডিকেটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের প্রতিনিধিসহ সব সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচন আয়োজনে ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন। নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বাহাদুর শাহ পার্কে পুলিশের কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে।’

এদিকে নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোট নিয়ে আর কোনো শঙ্কা নেই। কালই হচ্ছে জকসু নির্বাচন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।

আরও পড়ুন: শিক্ষক সংকটে নতুন উদ্যোগ: অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পুল গঠনের নির্দেশ

শিক্ষার্থীরা জানান, ছাত্র সংসদ নির্বাচন তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ও সংগ্রামের ফসল। আবাসন সংকট নিরসন, শিক্ষার পরিবেশ ও গবেষণার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে জকসু কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। তাদের প্রত্যাশা, আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রেখে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দেবে।

ছাত্রদল ও ছাত্রঅধিকার সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী এ কে এম রাকিব বলেন, ‘প্রশাসন বিভিন্ন অজুহাতে এ পর্যন্ত কয়েক ধাপে নির্বাচন পিছিয়েছে। ৬ তারিখের পর আর কোনো টালবাহানা হবে না।’

ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসন যদি ৬ তারিখ নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের আশা-আকাঙ্ক্ষার বিপক্ষে যে অবস্থান, সেখান থেকে শিক্ষার্থীদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হবে। এ ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা প্রশাসনের নেই।’

এ বিষয়ে জকসুর নির্বাচন কমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন আয়োজনের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে কমিশন ও প্রক্টর অফিস। নির্বাচনের পরিবেশ যেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ থাকে, সে বিষয়ে আমরা নজর রাখছি।’

জকসু নির্বাচন কমিশনার মো. জুলফিকার মাহমুদ বলেন, ‘আমরা জকসু নির্বাচন করার ব্যাপারে পুরোপুরি প্রস্তুত। ইলেকশন কমিশনের পক্ষ থেকে সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনে ২১টি পদের বিপরীতে ১৭ জন নারীসহ মোট ১৫৭ জন এবং ছাত্রী হল সংসদ নির্বাচনে ১৩টি পদে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বমোট ভোটার ১৬ হাজার ৬৪৫ জন। একমাত্র হল সংসদ নির্বাচনে ভোটার ১ হাজার ২৪২ জন আবাসিক শিক্ষার্থী। ভোটগ্রহণের জন্য মোট ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১০০ ভোটারের জন্য থাকছে একটি করে বুথ। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। তবে ৩টার মধ্যে যারা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করবেন, তারা সবাই ভোট দিতে পারবেন।

যেকোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও নির্বাচনী সহিংসতা এড়াতে ক্যাম্পাসে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেও আলাদাভাবে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।