১০-১২ হাজার টাকায় রাঙ্গামাটি থেকে মিজোরামে পাচার হচ্ছে কুকুর
রাঙ্গামাটি-এর লংগদু উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বেওয়ারিশ কুকুর শিকার করে ভারতে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসব কুকুর সীমান্ত পেরিয়ে মিজোরাম-এ নেওয়া হচ্ছে। আকারভেদে প্রতিটি কুকুর ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লংগদুর বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষভাবে তৈরি বাঁশের ফাঁদ ব্যবহার করে কুকুর ধরা হচ্ছে। পরে নৌকাযোগে কাপ্তাই হ্রদ পাড়ি দিয়ে সেগুলো বরকল উপজেলা-এ নেওয়া হয়। সেখান থেকে সীমান্তবর্তী এলাকা হয়ে মিজোরামে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষ, খাদে পড়ে নিহত ১, আহত অন্তত ২৫
মিজোরামের জনপ্রিয় বসন্ত উৎসব চাপচার কুট সাধারণত মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হয়। কৃষিভিত্তিক এ উৎসবকে কেন্দ্র করে কিছু এলাকায় কুকুরের মাংসের চাহিদা বাড়ে বলে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য। অভিযোগ রয়েছে, আসন্ন উৎসব সামনে রেখে কুকুর শিকার ও পাচারের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশে ২০১৯ সালের প্রাণী কল্যাণ আইন অনুযায়ী মালিকবিহীন কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণী হত্যা কিংবা অপসারণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বৈশাখী মেলা ঘিরে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা
অন্যদিকে ভারতে, বিশেষ করে মিজোরামে কুকুর জবাই ও বিক্রি নিষিদ্ধ। ২০২০ সালের মার্চে মিজোরাম বিধানসভায় ‘মিজোরাম অ্যানিম্যাল স্লটার (সংশোধন) বিল, ২০২০’ পাস হয়, যার মাধ্যমে কুকুরকে জবাই বা ভোজ্য প্রাণীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিকারি দাবি করেছেন, তারা বরকল উপজেলা থেকে এসেছেন এবং মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যেই কুকুর ধরেছেন।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. দেবরাজ চাকমা বলেন, বসন্ত উৎসবকে কেন্দ্র করে মিজোরামের কিছু এলাকায় কুকুরের মাংস খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। উৎসব সামনে রেখে কুকুর শিকার করা হতে পারে।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯-এর ৭ ধারা অনুযায়ী মালিকবিহীন কুকুর হত্যা বা অপসারণ দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি সতর্ক করে বলেন, কুকুর জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগ বহন করতে পারে। বেওয়ারিশ কুকুরের মাংস খাওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি আরও জানান, কোনো এলাকায় কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়া হলে সেখান থেকে কুকুর সরিয়ে নেওয়া হলে একটি শূন্যতা তৈরি হয়। ফলে টিকাবিহীন কুকুর এসে জায়গা দখল করতে পারে। এ কারণেই নির্বিচারে কুকুর অপসারণ নিরুৎসাহিত করতে আইন করা হয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের আহ্বানও জানান তিনি।





