ঝুম বৃষ্টির মধ্যেই শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ১৯৯তম ঈদুল আজহার জামাত

Any Akter
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১:৫১ অপরাহ্ন, ২৮ মে ২০২৬ | আপডেট: ১:৫১ অপরাহ্ন, ২৮ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে ঝুম বৃষ্টির মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯৯তম পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মাঠ ভেজা থাকলেও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে সকাল ৯টায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন শহরের বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।

নামাজের দ্বিতীয় রাকাত থেকে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। এতে মুসল্লিরা ভিজেই নামাজ আদায় করেন। তবুও বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঈদের জামাতে অংশ নেন হাজারো মুসল্লি।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বন্দরে প্রশাসনিক সংস্কার: ২ বছরে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অভূতপূর্ব সাফল্য

জামাত শুরুর আগে মুসল্লিদের ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইশতিয়াক ইমন।

শোলাকিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী জামাত শুরুর ১০ মিনিট আগে তিনটি, পাঁচ মিনিট আগে দুটি এবং এক মিনিট আগে একটি শটগানের গুলি ছুড়ে সংকেত দেওয়া হয়। প্রথম তিনটি গুলি ছোড়েন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

আরও পড়ুন: বাঁশখালীতে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন’

ঈদের জামাত ঘিরে নেওয়া হয় চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠজুড়ে মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য, দুই প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাব, সিআইডি ও পিবিআই সদস্য। এছাড়া ড্রোন ক্যামেরা, সিসি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার, আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলও প্রস্তুত রাখা হয়।

দূরদূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে সকালে দুটি ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ ট্রেন চালু করে রেলওয়ে বিভাগ।

তবে কোরবানির ব্যস্ততার কারণে ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবার মুসল্লির উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নামাজ শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও প্রয়াত জাতীয় নেতাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।