ইলন মাস্কের ‘আমেরিকা পার্টি’: প্রেসিডেন্ট হতে না পারলেও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বড় চ্যালেঞ্জের বার্তা

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩৮ অপরাহ্ন, ০৭ জুলাই ২০২৫ | আপডেট: ৯:৫৬ অপরাহ্ন, ১১ অক্টোবর ২০২৬
ইলন মাস্ক, ডোনাল্ড ট্রাম্প।ছবিঃ সংগৃহীত
ইলন মাস্ক, ডোনাল্ড ট্রাম্প।ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং টেসলা ও স্পেসএক্স–এর প্রধান ইলন মাস্ক নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। দলটির নাম দিয়েছেন ‘আমেরিকা পার্টি’। স্থানীয় সময় শনিবার (৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ঘোষণা দেন।

মাস্ক লিখেছেন, আমেরিকা পার্টি প্রতিষ্ঠিত হলো, যাতে আপনাদের স্বাধীনতা আবার ফিরিয়ে দিতে পারি।” তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র একদলীয় ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে, যেখানে দুর্নীতি ও অপচয়ের মাধ্যমে দেশকে দেউলিয়া করে ফেলা হচ্ছে। তার মতে, এটা গণতন্ত্র নয়।

আরও পড়ুন: ইসলামাবাদে রেড অ্যালার্ট, জারি ১৪৪ ধারা

মাস্কের নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার নিউ জার্সির গলফ ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি মাস্ককে কটাক্ষ করে বলেন, মাস্ক এখন ট্রেন দুর্ঘটনার মতো একটা পরিস্থিতিতে আছেন। তিনি পথ হারিয়ে ফেলেছেন।

এক সময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ছিলেন মাস্ক। ট্রাম্প প্রশাসনে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি দক্ষতা বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও ‘বিগ বিউটিফুল বিল’-এর বিরোধিতা করে মাস্ক পদত্যাগ করেন।

আরও পড়ুন: ব্যারিকেড সরানোসহ ইন্টারনেট ও গণপরিবহন স্বাভাবিক করার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া মাস্ক ২০০২ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। তবে সংবিধানের আর্টিকেল ২, সেকশন ১ অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য জন্মসূত্রে নাগরিক হওয়া আবশ্যক। ফলে মাস্ক এই পদে প্রার্থী হতে পারবেন না।

তবে মাস্কের লক্ষ্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নয়, বরং কংগ্রেসে প্রভাব বিস্তার। তিনি বলেছেন, যেসব আসনে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নেই, সেখানে ‘আমেরিকা পার্টি’ প্রার্থী দেবে। তার লক্ষ্য হলো, কংগ্রেসে এমন প্রভাব তৈরি করা, যাতে কোনো আইন পাসের সময় তার দলের ‘ডিসাইসিভ ভোট’ ভূমিকা রাখতে পারে।

দল গঠনের আগে মাস্ক নিজের এক্স প্ল্যাটফর্মে জনমত জরিপ চালান। সেখানে দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ একটি নতুন রাজনৈতিক দলের পক্ষে মত দেয়। এরপরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের ঘোষণা দেন। তবে এখনো পর্যন্ত ‘আমেরিকা পার্টি’ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইলেকশন কমিশনে (FEC) নিবন্ধিত হয়নি, যা বৈধ রাজনৈতিক দলের স্বীকৃতি পেতে অপরিহার্য।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী না হয়েও ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রের দুই-দলীয় ব্যবস্থায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারেন। বিভিন্ন রাজ্যে ঘনিষ্ঠ ভোটের ব্যবধান থাকায় মাস্কের দল তৃতীয় শক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে, নিরপেক্ষ প্রার্থীদের সমর্থন দিয়ে তিনি কংগ্রেসের আইন প্রণয়নে প্রভাব ফেলতে পারেন।

এছাড়া, মাস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম–ভিত্তিক জনপ্রিয়তা তাকে জাতীয় রাজনৈতিক বিতর্কে এক বড় খেলোয়াড়ে পরিণত করতে পারে। এতে প্রেসিডেন্ট না হয়েও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একজন ‘ডিসরাপটিভ ইনফ্লুয়েন্স’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন।