গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ শুরু, ‘সাজানো’ নাটক বলছেন বিশ্লেষকের
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রণীত ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনাটিকে শুধু যুদ্ধবিরতি সীমিত রাখার পরিবর্তে এখন গাজার নিরস্ত্রীকরণ, ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামোর পুনর্গঠন এবং টেকনোক্র্যাট শাসনব্যবস্থা চালুর দিকে এগানো হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয় ধাপের বাস্তবায়নের জন্য হামাসকে তাদের সমস্ত দায়বদ্ধতা পূরণ করতে হবে, যার মধ্যে আটক জিম্মিদের মরদেহ দ্রুত ফেরত দেওয়ার শর্ত অন্তর্ভুক্ত। অন্যথায় হামাসকে ‘গুরুতর পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কা: যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা সৌদির
তবে গাজার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ইসরায়েল ১ হাজার ১৯০ বারের বেশি লঙ্ঘন করেছে, যার ফলে অন্তত চার শতাধিক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজার ৮০ শতাংশ ভবন ধ্বংস হওয়ার কারণে পুনর্গঠন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা খুবই জটিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০ দফার পরিকল্পনায় গাজায় একটি ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, জাতিসংঘের সাবেক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ বোর্ডের নেতৃত্ব দেবেন। এছাড়া কাতার, তুরস্ক ও মিসর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটির প্রধান হিসেবে আলি আবদেল হামিদ শাথের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শেষে আকাশসীমা খুলে দিল ইরান
কিন্তু আল জাজিরার বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা এই প্রক্রিয়াটিকে ‘ইসরায়েলের সাজানো নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এই পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতার বিষয় কার্যত উপেক্ষিত হয়েছে এবং এটি কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার একটি মাধ্যম।
মানবিক দিক থেকে গাজার পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তার জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে, কিন্তু ইসরায়েল তা ষধৎমবষু অগ্রাহ্য করছে। এক বছরেরও বেশি সংঘাতের মধ্যে এ পর্যন্ত ৭১,৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যা আধুনিক যুগের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত।





