তেলের বাজার ‘নিয়ন্ত্রণের’ বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি টার্মিনাল খারগ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চলমান যুদ্ধের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই হামলার ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজার ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ চলে যেতে পারে বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন একজন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন সেনা কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন: ইরানে ২ লাখ ডলারের জরুরি মানবিক সহায়তা দেবে চীন
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মার্ক কিমিট বলেন, ‘এর (মার্কিন হামলার) অর্থ হলো আমরা এই যুদ্ধে ঝুঁকির মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছি। বিষয়টি এখন আর শুধু ‘‘সামরিক বাহিনী বা সরকারকে হটিয়ে দেওয়ার’’ মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং আমরা এখন দেশটির (ইরান) অর্থনৈতিক প্রাণভোমরাকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করছি।’
কিমিট বলেন, ইরান যাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়, সেটি নিশ্চিত করতে দ্বীপটিকে ‘জিম্মি’ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরান-হিজবুল্লাহর হামলার আতঙ্কে মানসিক রোগী বাড়ছে ইসরায়েলে
তবে ওই তেল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে কিমিট সতর্ক করে বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে ইরান তখন মধ্যপ্রাচ্যের বাকি অবকাঠামোগুলোর ওপর হামলা চালাবে। আর সেই পর্যায়ে তেলের দাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।’
ইরান উপকূল থেকে পাঁচ মাইল দূরে অবস্থিত এই খারগ দ্বীপ দিয়েই দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা হয়। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহে দ্বীপটি অক্ষত ছিল বলে মনে করা হচ্ছিল।
গতকাল শুক্রবার রাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র খারগ দ্বীপের ‘প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু পুরোপুরি ধ্বংস’ করেছে। ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া অব্যাহত রাখে, তবে দ্বীপটির তেল অবকাঠামোতেও হামলার হুমকি দেন তিনি।
এর আগে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, পারস্য উপসাগরে ইরানের দ্বীপগুলোর ওপর কোনো মার্কিন আগ্রাসন চালানো হলে দেশটিও ‘সব ধরনের সংযম’ পরিহার করবে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন





