ভারত মহাসাগরে মার্কিন-ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, ২১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, ২১ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইআরবিএম) নিক্ষেপ করেছে ইরান। শনিবার (২১ মার্চ) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে) এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান এই হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। তবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।

আরও পড়ুন: ইরানের নাতানজ পারমাণবিক কেন্দ্রে পুনরায় হামলা

মার্কিন সূত্র অনুযায়ী, ইরান ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি লক্ষ্য করে দুটি মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিধ্বস্ত হয়। অপর ক্ষেপণাস্ত্রটি মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোড়া ‘এসএম-৩’ ইন্টারসেপ্টর দিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়। তবে সেটি পুরোপুরি ধ্বংস করা গেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি পেন্টাগন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিতে পারে, কারণ এর আগে ইরান কখনও সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে আইআরবিএম ব্যবহার করেনি। এ ঘটনায় ইরানের দীর্ঘপাল্লার হামলা সক্ষমতার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

আরও পড়ুন: ইরানি তেল কিনতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত ও এশিয়ার অন্যান্য দেশ

ভারত মহাসাগরের ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত চাগোস দ্বীপপুঞ্জের অংশ ডিয়েগো গার্সিয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। তেহরান থেকে প্রায় ৫ হাজার ২৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটি থেকে বি-২, বি-১ ও বি-৫২ বোমারু বিমান, পারমাণবিক সাবমেরিন এবং গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার পরিচালনা করা হয়। ভিয়েতনাম, ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধেও এই ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এর আগে ইরান দাবি করেছিল, তারা স্বেচ্ছায় তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে। তবে এই হামলার চেষ্টা সেই ঘোষণার বিপরীত ইঙ্গিত দেয়, যা ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক বার্তা দিতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান, যাতে সম্ভাব্য সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকে। এই ঘটনার ফলে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।